ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে কোনো সুযোগই দিল না ভারত। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটিং তাণ্ডবের পর বোলারদের দাপটে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ৭২ রানে হারিয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারতের মেয়েরা।
এ নিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপের ট্রফি ঘরে তুলল ভারত। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা। এর আগে ওয়ানডে সংস্করণে ২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হন শেফালি ও মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১২.৫ ওভারে ১২৯ রান যোগ করেন তারা। নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে যেকোনো উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।
শেফালি মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন। নারী এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটিই দ্রুততম ফিফটি। আগের রেকর্ডটি ছিল মান্ধানার—২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করেন শেফালি। মান্ধানা ৩৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫৯ রান। এরপর রিচা ঘোষের ১৭, হারমানপ্রিতের ১৪ ও গুনালান কামালিনির ৫ বলে করেন ঝড়ে ১৫ রান।
ফলে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে ভারত। নারী টি-টোয়েন্টি কোনো আসরের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
১৮৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারেই ৪ রান করে ফেরেন ইমিশা দুলানি। এরপর বিশমি গুনারত্নে ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
তবে ৩২ বলে ৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ম ওভারের তৃতীয় বলে দীপ্তি শর্মার বলে স্টাম্পড হন লঙ্কান অধিনায়ক। একই ওভারের শেষ বলে ২২ বলে ২০ রান করা গুনারত্নেকেও বোল্ড করেন দীপ্তি।
এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১১ রানেই অলআউট হয় তারা।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চরণী। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট।


