নতুন বাজেটে ঋণের বড় বোঝা

বিদায়ী বছরে ১০৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ : ব্যাংক ঋণ কমানোর লক্ষ্য; কিন্তু পুরনো ঋণের সুদেই বড় চাপ ‘বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থসঙ্কটের আশঙ্কা’ রাজস্ব ঘাটতি হলে ফের বাড়তে পারে সরকারি ঋণ

সরকারের অর্থায়নের সঙ্কট নতুন অর্থবছরের বাজেটেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য কিছুটা কমানো হয়েছে। কিন্তু আগের বছরের জমে থাকা বিপুল ঋণ, তার বিপরীতে সুদ পরিশোধের দায় এবং রাজস্ব আদায়ে সম্ভাব্য ঘাটতি- সব মিলিয়ে নতুন বাজেট বাস্তবায়নে ঋণের চাপ কমার বদলে অন্য রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

সরকারের অর্থায়নের সঙ্কট নতুন অর্থবছরের বাজেটেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য কিছুটা কমানো হয়েছে। কিন্তু আগের বছরের জমে থাকা বিপুল ঋণ, তার বিপরীতে সুদ পরিশোধের দায় এবং রাজস্ব আদায়ে সম্ভাব্য ঘাটতি- সব মিলিয়ে নতুন বাজেট বাস্তবায়নে ঋণের চাপ কমার বদলে অন্য রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়েছে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। অথচ পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ছয় হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ওই অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ নেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু ব্যাংক থেকেই নেয়া ঋণ পুরো অভ্যন্তরীণ ঋণের মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে।

অন্য দিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নিট ঋণ এসেছে মাত্র প্রায় ১৯২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই উৎস থেকে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারি অর্থায়নের কাঠামোতে ব্যাংকনির্ভরতা বেড়েছে, আর ব্যাংকবহির্ভূত উৎস প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

নতুন অর্থবছরে লক্ষ্য কম; কিন্তু উত্তরাধিকার বিশাল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের প্রকৃত ব্যাংকঋণের তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা কম।

দেখতে এটি ইতিবাচক। কিন্তু সমস্যাটি হলো- সরকার নতুন অর্থবছরে শুধু নতুন ঋণ নেবে না; আগের বছরগুলোর ঋণের সুদ ও অন্যান্য দায়ও বহন করবে। ফলে নতুন ঋণের প্রবাহ কমলেও মোট ঋণের বোঝা দ্রুত কমে যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।

জুন ২০২৬ শেষে সরকারের মোট নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ ২১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা, বা ১২ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি।

এই ঋণই এখন নতুন বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করছে।

সুদই হয়ে উঠছে বাজেটের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী

নতুন অর্থবছরের সবচেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ঋণের সুদ পরিশোধ। বাজেট প্রস্তাবে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যই বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারি বাজেটের নথিতে দেশীয় ঋণের সুদ ব্যয়ের জন্য প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারের রাজস্ব বাড়লেও তার একটি বড় অংশ উন্নয়নমূলক ব্যয় কিংবা নতুন বিনিয়োগে যাওয়ার আগে পুরনো ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাবে।

এখানেই নতুন বাজেটের মৌলিক দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট। সরকার এক দিকে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলছে; অন্য দিকে অতীতের ঋণের দায় মেটাতে বাজেটের ক্রমবর্ধমান অংশ ব্যয় হচ্ছে।

ব্যাংকঋণের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি খাতে

সরকার যখন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নেয়, তখন একই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও তারল্য সঙ্কটের কারণে এমনিতেই ঋণ দেয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ সীমিত। এর মধ্যে সরকার বড় অঙ্কের ঋণ নিলে ব্যাংকগুলোর ব্যালান্সশিটে সরকারি সিকিউরিটিজের অংশ বাড়ে।

ফলে ব্যাংকের কাছে প্রশ্ন দাঁড়ায়- ঝুঁকিপূর্ণ বেসরকারি খাতে ঋণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে যাওয়া, নাকি তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগ করা? এই অবস্থাকে অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগকে সরিয়ে দেয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরো গুরুতর, কারণ অর্থনীতিতে এখন নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। সরকারি ঋণ যদি ব্যাংকের ঋণযোগ্য অর্থের বড় অংশ শোষণ করে নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।

ঋণ বাড়ছে; কিন্তু অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল ব্যবহার কতটা?

সরকারি ঋণ নিজে সমস্যা নয়। সমস্যা হয় তখন, যখন ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগের বদলে মূলত চলতি ব্যয়, ঘাটতি পূরণ ও পুরনো দায় পরিশোধে ব্যবহৃত হয়।

নতুন অর্থবছরে এই প্রশ্নটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট এবং রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদি নতুন ঋণের বড় অংশ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সক্ষম প্রকল্পে যায়, তাহলে ঋণের বিপরীতে ভবিষ্যতে উৎপাদন ও রাজস্ব বাড়তে পারে। কিন্তু ঋণ যদি মূলত রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে এবং সরকারের চলতি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দায় বাড়বে; কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদনক্ষমতা বাড়বে না।

রাজস্ব আদায়ই এখন বাজেটের ‘টার্নিং পয়েন্ট’

নতুন অর্থবছরের ঋণচিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হবে রাজস্ব আদায়। সরকার বাজেটে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সেই লক্ষ্য পূরণ না হলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে। তখন ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারকে আবার দেশীয় ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য চক্রটি হতে পারে-

রাজস্ব ঘাটতি ? বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি? অতিরিক্ত ঋণ? সুদ ব্যয় বৃদ্ধি? ভবিষ্যৎ বাজেটে আরো বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ।

এই চক্র ভাঙতে না পারলে শুধু ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা

কমিয়ে প্রকৃত ঋণনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে না।

ব্যাংকবহির্ভূত উৎস কেন কাজ করছে না?

২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সরকার ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্থ সংগ্রহ করতে পারেনি।

সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎসে নিট ঋণ প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ায় সরকারের অর্থায়নের ভার ব্যাংকের ওপর চলে গেছে। নতুন অর্থবছরে এই প্রবণতা বদলাতে না পারলে ব্যাংকঋণের ওপর চাপ আবার বাড়তে পারে। এখানে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার, কর কাঠামো, জনগণের সঞ্চয়ক্ষমতা, সরকারি সিকিউরিটিজের আকর্ষণ এবং আর্থিক বাজারের আস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সুদ, ঋণ ও মূল্যস্ফীতির ত্রিমুখী চাপ

সরকারের বড় ঋণ শুধু বাজেটের সমস্যা নয়; এটি সামষ্টিক অর্থনীতিরও সমস্যা। সরকারি ঋণ বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরকারি সিকিউরিটিজের চাহিদা বাড়ে। সুদের হার উচ্চ থাকলে সরকারের সুদ ব্যয় আরো বাড়ে। আবার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হলে বেসরকারি খাতের ঋণ আরো ব্যয়বহুল হতে পারে।

ফলে নতুন অর্থবছরে একটি অস্বস্তিকর সমীকরণ তৈরি হতে পারে-

সরকারের ঋণ বেশি? সুদ ব্যয় বেশি? ব্যাংকের সরকারি ঋণে আগ্রহ বেশি ? বেসরকারি ঋণে চাপ? বিনিয়োগ কম? প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ।

এটি অবশ্য অনিবার্য ফল নয়; ঋণের ব্যবহার, মুদ্রানীতি, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের ওপর ফলাফল নির্ভর করবে।

নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে- এটি সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার একটি বার্তা। কিন্তু আগের বছরের বাস্তবতা বলছে, লক্ষ্য নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; লক্ষ্য অনুযায়ী ঋণ নিয়ন্ত্রণ করাই হবে বড় পরীক্ষা। কারণ অর্থবছর২৬-এ ব্যাংক থেকে সরকারের প্রকৃত নিট ব্যাংকঋণ ছিল প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। নতুন বছরে লক্ষ্য এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারকে আগের বছরের বাস্তব ঋণের তুলনায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা কম ব্যাংকঋণ নিতে হবে।

এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে তিনটি কাজ জরুরি- প্রথমত, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে; দ্বিতীয়ত, বিদেশী অর্থায়ন ও প্রকল্প ঋণের কার্যকর ছাড় নিশ্চিত করতে হবে; তৃতীয়ত, ব্যাংকবহির্ভূত অভ্যন্তরীণ উৎসকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এর কোনোটিই সফল না হলে বাজেট বাস্তবায়নের মাঝপথে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রবৃদ্ধির বাজেট না ব্যাংকঋণ ব্যবস্থাপনার বাজেট?

নতুন অর্থবছরের মূল প্রশ্ন তাই বাজেটের আকার কত বড়- তা নয়। প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কতটা ঋণনির্ভর এবং ঋণের অর্থ কোথায় যাচ্ছে।

সরকার যদি অর্থবছর ২৬ এ নিয়ে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তাহলে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে পারে। কিন্তু যদি এই অর্থবছরেও মূলত ঘাটতি ও চলতি ব্যয়ের চাপ সামলাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নতুন অর্থবছর ভবিষ্যতের রাজস্বকে বর্তমানের দায় পরিশোধে আগাম বন্ধক রাখার দিকে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখানেই- সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ার সাথে যদি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়ে, তাহলে অর্থনীতি একই সাথে সুদ ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির ফাঁদে আটকে যেতে পারে। নতুন বাজেটের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো- ঋণের প্রবাহ কমানোর চেয়ে ঋণের কাঠামো বদলানো বেশি জরুরি। শুধু ব্যাংক থেকে কম ব্যাংকঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না। সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে, বৈদেশিক অর্থায়ন দ্রুত কাজে লাগাতে হবে এবং ব্যাংকবহির্ভূত সঞ্চয়কে পুনরায় সরকারি অর্থায়নের কার্যকর উৎসে পরিণত করতে হবে।

তা না হলে অর্থবছর ২৭-এর এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণের লক্ষ্যও বাস্তবায়নের সময় চাপের মুখে পড়তে পারে। আর তখন নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে অর্থের অভাব নয়- অর্থ সংগ্রহের জন্য সরকারের সাথে বেসরকারি খাতের একই সীমিত ব্যাংকিং সম্পদের প্রতিযোগিতা। সেখানেই নির্ধারিত হবে নতুন অর্থবছর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে, নাকি পুরনো ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ক্রমবর্ধমান রাজস্ব আটকে যাবে।