হারারে টেস্টে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নময় প্রথম দিন, দাপট দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ে

যে উইকেটে রান পেতে অনেকটা খাবি খাচ্ছিলো বাংলাদেশ, সেখানে এখন উইকেটের জন্য করতে হচ্ছে হাপিত্যেশ; দেদারসে রান তুলছে স্বাগতিকেরা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশের বিপক্ষে উইকেট উদযাপন জিম্বাবুয়ে দলের দুই খেলোয়াড়ের
বাংলাদেশের বিপক্ষে উইকেট উদযাপন জিম্বাবুয়ে দলের দুই খেলোয়াড়ের |সংগৃহীত

হারারেতে দুঃস্বপ্ন দেখার মতো একটা দিন পাড় করলো বাংলাদেশ। যে দিনটা ভুলে যেতে চাইবেন শান্ত-মুমিনুলরা। কিন্তু সেটা মোটেও সহজ হবে না, ম্যাচ শেষ হতে এখনো চারদিন বাকি। ফলে দুঃসহ দিনটাকে সাথে নিয়েই লড়াই করতে হবে টাইগারদের।

যে উইকেটে রান পেতে অনেকটা খাবি খাচ্ছিলো বাংলাদেশ, সেখানে এখন উইকেটের জন্য করতে হচ্ছে হাপিত্যেশ; দেদারসে রান তুলছে স্বাগতিকেরা। প্রথম দিন শেষেই হাঁটছে বড় লিড নেয়ার পথে।

রোববার সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ১৪০ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর ব্যাট হাতেও দাপট দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। ৩৪ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ১৩৬ রান তুলেছে তারা। লিড নিতে তাদের চাই আর মাত্র ৪ রান।

উদ্বোধনী জুটিতেই ১৬.২ ওভারে ৮৯ রান তুলে ফেলে জিম্বাবুয়ে। এরপর ৫১ বলে ৪২ রান করা বেন কারানকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। তবে আরেক ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া এখনো ছুটছেন।

ওয়ানডে মেজাজে ফিফটি তুলে নেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ১০৮ বলে ৭৬ রান নিয়ে দিনশেষ করেছেন তিনি। তার সাথে আছেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর (৪৫ বলে ১৭)। জুটিতে দু'জনে যোগ করেন ১০৬ বলে ৪৭* রান।

এমতাবস্থায় দ্বিতীয় দিনে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ ছিটকে যেতে পারে হাত থেকে।

অবশ্য এর জন্য বড় দায় ব্যাটারদের। টসে হেরে ব্যাট করা বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ৭ম ওভারে। মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন ১৭ বলে ২ রান করে। ১২ ওভারে দলীয় ৩৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দল।

এবার আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম আউট হয়ে ফেরেন ৩৮ বলে ২০ করে। তবে এরপর মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে বিরতির আগে আর বিপদ বাড়তে দেননি। বিরতি থেকে ফিরেই ফিফটি তুলে নেন মুমিনুল।

তবে এরপরই নিউম‍্যান নিয়ামুরির শিকার হন মুমিনুল। ভাঙে শান্তর সাথে তার ১৩০ বল স্থায়ী ৭৭ রানের জুটি। মুমিনুল ফেরেন ৮১ বলে ৬০ রান করে। আর বিপর্যয়ের শুরু এখানেই।

মুমিনুল ফেরার পরপরই ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ৭৩ বল খেলে ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাঁচে নেমে মুশফিকও ব্যর্থ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার আউট হয়েছেন ২১ বলে ৯ রান করে। ১২ রানের মাঝে ৩ উইকেট হারায় দল।

এমতাবস্থায় সবাই চেয়েছিল দুই অভিষিক্ত অমিত হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের দিকে। কিন্তু দু’জনই হতাশ করেন। হৃদয় ১৬ বলে ৩ ও অমিত ১৫ বলে ৪ রান করে আউট হন। এরপর কেবল তাইজুল ইসলাম ৯ রান করেন। আর কেউ রানের খাতা খুলতে পারেননি।

২ উইকেটে ১১৩ রান থেকে ৪৭.২ ওভারে ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২৭ রান তুলতেই শেষ ৮ উইকেট হারায় টাইগাররা।

নিউম‍্যান নিয়ামুরি ৪ ও ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা আর ব্রাড ইভান্স বেন দুটো করে উইকেট।