মেহেদী হাসান মিরাজের কারণে জাতীয় দলের দরজা প্রায় বন্ধ হতে যাচ্ছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন তখনকার প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।
তবে নির্বাচন পদ থেকে লিপু সরে দাঁড়াতেই দরজা খুলে গেছে মোসাদ্দেকের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে দলে মোসাদ্দেককে রেখেছেন নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
এদিকে যেই মিরাজের জন্য দলে জায়গা পাচ্ছিলেন না মোসাদ্দেক, সেই মিরাজই উচ্ছ্বসিত অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে দলে পেয়ে। মিরাজ বলেন, ‘আমি দলে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীতা অনুভব করছি।’
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেছেন, ‘সে (মোসাদ্দেক) যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য ও দলের জন্য বিরাট সহায়তা হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী তাকে নিয়ে। যদি সুযোগ আসে, সে ভালো করবে।’
মোসাদ্দেককে কিভাবে ব্যবহার করা হবে সেই ধারণাও দিয়ে রাখলেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন পাঁচটা বোলার নিয়ে খেলবেন, সাথে বাড়তি বোলার থাকবে, তখন অনেক ভরসা থাকবে। ব্যাকআপ বোলার থাকলে দলের ভারসাম্য খুব ভালো থাকে।’
পরীক্ষিত হওয়ায় তার ওপর মিরাজের প্রত্যাশাও অনেক। মিরাজ বলেন, ‘সে (মোসাদ্দেক) ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ভালো বোলিং করেছে এবং পরীক্ষিত। আমার কাছে মনে হয়, সে ভালো জায়গায় বল করলে ভালো হবে এবং অধিনায়ক হিসেবে আমারো অনেক বিশ্বাস থাকবে, যদি সে ভালো করে।’
মোসাদ্দেকের দলে না থাকার প্রসঙ্গে ‘মিরাজ দলে থাকলে মোসাদ্দেকের সুযোগ নেই’ – সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ এমন মন্তব্য করেছিলেন। এতোদিন মুখ না খুললেও মিরাজ এবার মনে করিয়ে দিলেন ইতিহাস।
তিনি বলেন, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসাথে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়।’
মিরাজ আরো বলেন, ‘মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলাম বোলিং অলরাউন্ডার। দু’জনের ভূমিকাটা আলাদা।’
পরিসংখ্যান মিরাজের পক্ষেই কথা বলছে। মোসাদ্দেকের খেলা ৪৩ ওয়ানডের ২৭টিতেই দলে ছিলেন মিরাজ। এবার চার বছর পর ফের একত্রে জুটি বাঁধার অপেক্ষায় দু’জনে।



