ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর বেশ চাপে আছে অস্ট্রেলিয়া। টাইগারদের বেশ সমীহ করতে শুরু করেছে স্বাগতিকেরা। এমনকি আগেভাগেই একাদশ ঘোষণার রীতি থেকেও সরে এসেছে প্যাট কামিন্সের দল। যা অজিদের দর্প চুর্ণ হওয়ার গল্পই বলে।
সাধারণত টেস্টের আগের দিনই দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টেও ম্যাচের এক দিন আগে একাদশ জানিয়েছিল তারা। তবে এবার বাংলাদেশকে নিয়ে বাড়তি হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে কামিন্সদের। তাই একাদশ ঘোষণাতেও বাড়তি সময় নিচ্ছে তারা।
আগামীকাল শনিবার ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে দুই দল। প্রথম টেস্টে হেরে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন জয় ছাড়া বিকল্প নেই। ম্যাচ ড্র হলেও বাংলাদেশের কাছে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ হারবে তারা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্সই যেন অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে টাইগারদের পেস আক্রমণের দাপটের পর এবার কন্ডিশন অনুযায়ী বোলিং আক্রমণ সাজাতে বেশ ভাবতে হচ্ছে স্বাগতিকদের।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নাথান লায়নকে নিয়ে। ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন বিবেচনায় অভিজ্ঞ এই স্পিনারকে একাদশের বাইরে রেখে চার পেসার খেলানোর কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া। সে ক্ষেত্রে স্কট বোল্যান্ডের একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
বোল্যান্ড দলে ফিরলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের সাথে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে থাকবেন আরো একজন অভিজ্ঞ পেসার। অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাটিংকে চাপে ফেলতেই পেসনির্ভর আক্রমণ বেছে নিতে পারে স্বাগতিকরা।
শুধু বোলিং নয়, ওপেনিংয়েও পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে দলে নেয়া হয়েছে ম্যাট রেনশকে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাভিস হেডের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
ডারউইনের হারের পর অস্ট্রেলিয়ার এমন পরিবর্তন ও শেষ মুহূর্তের দল নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পাওয়া ধাক্কার পর এবার প্রতিপক্ষকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক হয়েই এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও জানিয়েছেন, একাদশ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। অর্থাৎ ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কা যে অস্ট্রেলিয়াকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, সেটি স্পষ্ট। সিরিজ বাঁচাতে এবার শুধু নিজেদের শক্তির ওপর নয়, বাংলাদেশের সামর্থ্য মাথায় রেখেও পরিকল্পনা সাজাচ্ছে স্বাগতিকরা।



