জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তাওহীদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজে চোট পান লিটন। ফলে জিম্বাবুয়ে সফরে খেলতে পারছেন না তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফাইল ছবি

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারের ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে বুধবার থেকে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে শুরু হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজে জয়ের মিশনে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শুভ সূচনা করতে চায় টাইগাররা।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

ফেভারিট হিসেবে জিম্বাবুয়ে সফর শুরু করে বড়সড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সফরের একমাত্র টেস্ট ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারে টাইগাররা।

টেস্ট হারের দুঃস্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। কারণ নিজেদের সর্বশেষ ওয়ানডে চার সিরিজের সবগুলোই জিতেছিল টাইগাররা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের কাছে হারের পর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে টাইগাররা।

কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। আর শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায় টাইগাররা।

২-১ ব্যবধানে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হেরে এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ভালোভাবে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করার লক্ষ্য টাইগারদের।

২০২৪ সালে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়াও এই ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পাল্লা ভারী টাইগারদের। ২৫টি ম্যাচ খেলে ১৭টিতেই জিতেছে তারা।

কিন্তু সর্বশেষ দুই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিততে না পারার সাথে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডের ব্যর্থতা বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলেছে।

হারারেতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলার পর বুলাওয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। বুলাওয়ের পরিবেশ ও কন্ডিশনে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে টাইগাদের।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ হারারের চেয়ে কিছুটা আলাদা। বাতাস বেশি এবং সব মিলিয়ে পরিবেশও কিছুটা ভিন্ন।’

ওয়ানডে সিরিজে ভালো পারফরমেন্সের সুবাদে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক। ২০ ওভারের ক্রিকেটেও দলের জন্য অবদান রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

মোসাদ্দেক বলেন, ‘যখনই খেলার সুযোগ পাই, দলের জন্য ভালো কিছু করার এবং জয়ে অবদান রাখাই আমার প্রধান লক্ষ্য থাকে। ব্যক্তিগতভাবে, দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকাতেই আমি অবদান রাখতে চাই।’

শেষ ওয়ানডে থেকে পাওয়া জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট এবং প্রথম দুই ওয়ানডের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর ছন্দ ফিরে পেয়েছে টাইগাররা ব্যাটাররা। যা টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দলের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তাওহীদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজে চোট পান লিটন। ফলে জিম্বাবুয়ে সফরে খেলতে পারছেন না তিনি।

চলতি বছর টি-টোয়েন্টিতে দু’টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। একটিও জিততে পারেনি টাইগাররা। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে স্বাগতিকরা। এরপর গেল মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল : তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, সাইফুদ্দিন, আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

জিম্বাবুয়ে দল : সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাদান্ডে, টিনোতেন্ডা মাপোসা, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিয়ন মায়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামহুরি, মিল্টন শুম্বা।