ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়ে যেন পুরো উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দুই দিন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ হয়েছে ১–১ সমতায়।
এমন হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ককে প্রশ্ন করা হয়—দুই দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাকি তিন দিন কী করবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা? শান্তর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘ঘুমাব, শুয়ে থাকব।’
ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের হারের মূল কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার থেমেছে ৯৫ রানে।
টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শ’ রানের নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। টেস্ট ক্রিকেটেও এমন ঘটনা ২১ বছর পর দেখা গেল। তবে এই ব্যর্থতার পেছনে উইকেটের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন শান্ত।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। তবে ওরাও যখন ব্যাটিং করেছে, অনেক স্ট্রাগল করেছে। উইকেটটা অনেক কঠিন ছিল, এটা অবশ্যই মানতে হবে।’
তবে উইকেটকে দায়ী করেই থেমে থাকেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজেদের ভুলও স্বীকার করেছেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু বাজে শট ছিল। আমি কারো ওপরে আঙুল তুলতে চাই না। কারণ, দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি, ভালো ব্যাটিং করিনি।’
নিজের ব্যাটিং নিয়েও আক্ষেপ রয়েছে শান্তর। তিনি বলেন, ‘আমি আমার কথা বলতে পারি, আমি সেট হয়ে যে সময় আউট হয়েছি, এটা গ্রহণযোগ্য না। আমার ইনিংসটা আরেকটু লম্বা করা উচিত ছিল।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভিত নাড়িয়ে দেন এই পেসার।
স্টার্কের মতো বোলিং ও এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতার ঘাটতি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন শান্ত। তবে সেটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না তিনি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি অজুহাত দিচ্ছি না, অনেক দল আছে যারা নিয়মিত খেলে, তারাও এ রকম ধসে পড়ে। আমরা খারাপ খেলেছি, পরিস্থিতি অনেক কঠিন ছিল; কিন্তু খেলোয়াড়রা সবাই চেষ্টা করেছে। অবশ্যই আমরা আরেকটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম।’



