পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে জোর প্রচেষ্টা

বিদেশী ল ফার্মের সাথে চুক্তি হচ্ছে

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, এস আলম, বেক্সিমকো, নাসা গ্রুপ, শিকদার গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফেরত আনার জন্য সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া সম্পদ জব্দ করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অপর দিকে যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থপাচার হয়েছে, ওইসব ব্যাংক বিভিন্ন দেশের ল ফার্মের সাথে চুক্তি করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সর্বশেষ সাইপ্রাসে সরকারের অনুরোধে এস আলমের সম্পদ জব্দ করেছে ওই দেশের সরকার।

আশরাফুল ইসলাম
Printed Edition

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, এস আলম, বেক্সিমকো, নাসা গ্রুপ, শিকদার গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফেরত আনার জন্য সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া সম্পদ জব্দ করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অপর দিকে যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থপাচার হয়েছে, ওইসব ব্যাংক বিভিন্ন দেশের ল ফার্মের সাথে চুক্তি করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সর্বশেষ সাইপ্রাসে সরকারের অনুরোধে এস আলমের সম্পদ জব্দ করেছে ওই দেশের সরকার।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে বর্তমানে ১১টি মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশ ও অঞ্চলের সাথে তথ্যবিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে চিহ্নিত দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। অন্য কয়েকটি দেশ বিকল্প ব্যবস্থায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচার হওয়া সম্পদের অবস্থান শনাক্ত ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, হংকংসহ আরো কয়েকটি দেশের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মামলার সমন্বয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স কাজ করছে। এ পর্যন্ত অর্থপাচার-সংশ্লিষ্ট ১৪১টি মামলা দায়ের, ১৫টি মামলায় চার্জশিট এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং ও কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে পাচার হওয়া বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এসব দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরে আনার জন্য দুইভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া পাচারকারীদের সম্পদ জব্দ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সর্বশেষ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাইপ্রাস সরকার ব্যাংকখেকো এস আলমের বিপুল সম্পদ জব্দ করেছে। অপর দিকে ব্যাংকগুলোও চেষ্টা চালাচ্ছে বিদেশী আইনিসহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চুক্তি করার জন্য। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলা পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোর কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো পাচারকৃত যে পরিমাণ অর্থ ফেরত আনতে পারবে তার একটি অংশ কমিশন হিসেবে নেবে। তবে, এ কমিশন ২৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে, পাচার হওয়া অর্থ কবে নাগাদ ফেরত আনা যাবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অর্থপাচারের টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া সাধারণত দুই থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, কারণ বিদেশী আদালতে সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং রাষ্ট্রের দাবি প্রমাণ করতে হয়।

প্রসঙ্গত, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাচার হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা স্টোর ফর পলিসি ডায়ালাগ সিপিডি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৬ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক মাত্র এস আলমই ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছে, যার বড় অংশই বিদেশে পাচার করেছে। এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা জব্দ, অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত করা হয়েছে।