ইলিয়াস আলী গুম

উইং কমান্ডার সাইফের জামিন নামঞ্জুর, পাঠানো হলো কারাগারে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অব্যাহতিপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে এ মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষে এ গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ সময় বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে বিমান বাহিনীর একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত মাইক্রোবাসে করে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে হাজির করা হয়। হাজির করার পরপরই তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়। গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হলে চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম আসামিকে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নিবেদন জানান। অন্য দিকে সাইফের পক্ষে তার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট তাবারক হোসেন জামিনের পক্ষে সওয়াল-জবাব করেন।

শুনানিতে আইনজীবী তাবারক হোসেন আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, তার মক্কেল ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং তিনি একজন অত্যন্ত চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে অতীতে কখনো কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ছিল না। এমনকি এ মামলার অনেক আসামি আত্মগোপনে চলে গেলেও সাইফুর রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যখনই সাইফকে ডাক দেয়া হবে, তখনই তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং তদন্তে কোনো রূপ বিঘœ ঘটালে আদালত জামিন বাতিল করতে পারবেন। তাই তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিন সুবিধা দেয়ার আর্জি জানান এ আইনজীবী।

আইনজীবীর জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম আদালতে বলেন, উইং কমান্ডার সাইফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনার মূল চক্রান্ত ও বাস্তবায়নে সাইফুর রহমানের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও তার যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি।

উভয়পক্ষের দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক ও শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন তৎকালীন সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাঞ্চল্যকর এ গুমের ঘটনার তদন্ত চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় এনএসআই ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসানও ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।