সেনাসদস্যসহ ৩ জেলায় ৩ লাশ উদ্ধার

কালাইয়ে স্ত্রী হত্যায় স্বামী আটক

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক সেনাসদস্যসহ দেশের তিন জেলায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করা হয়েছে।

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের সদরপুরে জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

রোববার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো: জাফর খানের মেয়ে।

পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফা আক্তারকে (৬) সাথে নিয়ে ঘুমাতে যান জান্নাতুল। পরে সকালে ছোট বোন তাকে ঘরের টিনের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে যান এবং তাকে নিচে নামান।

পরিবারের দাবি, জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীতে পারিবারিক কলহের জেরে সজীব মোল্লা (২৭) নামে এক সেনাসদস্য গলায় ফাঁস নিয়ে মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় পাকশী পেপার মিল এলাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সেনা ব্যারাকের সরকারি কোয়ার্টারের স্নিগ্ধা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় নিজ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজীব মোল্লা মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওড় উপজেলার চক দিয়াইল গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে।

তিনি প্রায় ৮-৯ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে চাকরিরত আছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ডিউটি শেষে সজীব নিজ কোয়ার্টারে ফিরে কক্ষের দরজা বন্ধ করে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা রাতের কোন এক পর্যায়ে তিনি সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা ও রশি ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সহকর্মী ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তিনি মারা যান।

রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: ইয়াদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক গিয়ে নিহত সেনাসদস্যের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। এরপর লাশ মৃত্যু সার্টিফিকেটের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আশাদুর রহমান জানান, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা দক্ষিণ ব্যাপারীহাট এলাকার শিদলিয়া ডোবা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে দক্ষিণ ব্যাপারীহাট এলাকার একটি ডোবায় কচুরিপানার মধ্যে লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে লোকজন থানায় খবর দিলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

?স্থানীয়রা ধারণা করছেন, অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা লাশটি এই ডোবায় এনে ফেলতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তাদের ধারণা।

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্ত্রীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামীর মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার আট দিন পর গত শুক্রবার রাতে স্ত্রী মাছুদা বেগম (২৭) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। নিহত গৃহবধূ মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মন্ডলের মেয়ে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ওসি তদন্ত দীপেন্দ্র নাথ সিংহ।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এর মধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। বিচ্ছেদের এক বছরের মাথায় তারা আবারও বিবাহ করেন। এরই মধ্যে গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বাধে। একপর্যায়ে স্ত্রীকে বেদম মারধর করে। তখন স্ত্রী মাছুদা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন।

পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় ওই দিনই তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মাছুদা মারা যান।

মামলার বাদি বছির মন্ডল বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।