চরফ্যাসনে জাল স্বাক্ষরে এমপিওভুক্ত ২ শিক্ষক

Printed Edition

চরফ্যাসন (ভোলা) সংবাদদাতা

নতুন এমপিওভুক্তির আবেদনে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দু’টি দাখিল মাদরাসার সুপারের বেতন-ভাতা (এমপিও) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর। একইসাথে তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুন্নবী এবং ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ আমির হোসেনের নামে পৃথক এ নোটিশ জারি করে।

অধিদফতরের নোটিশে বলা হয়, ২০২৬ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি নতুন এমপিও আবেদন পর্যালোচনা করে আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ল্যাব অপারেটর ও আয়া পদ এবং ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ফলাফল শিট প্রস্তুত, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি এবং স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ পেয়েছে।

যাচাই-বাছাই কমিটি এসব অনিয়ম শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট এমপিও আবেদন বাতিলের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দুই সুপারের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অথবা জবাব গ্রহণযোগ্য না হলে তাদের এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, ‘আমার সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। আমি অধিদফতরে লিখিত জবাব দেব।’

ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, ‘অধিদফতরের চিঠি পেয়েছি। বর্তমানে ঢাকায় আছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব প্রদান করব।’

চরফ্যাসন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর এ কে এম আবুল খায়ের বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। তার পূর্বসূরির স্বাক্ষর জাল করে এ কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।