খাদেমুল বাবুল জামালপুর
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য ও চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্বহীনতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। কম খরচে সরকারি পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীরা বাইরের ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার দরিদ্র মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাস্থল ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৩৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত ১৭ জন। তবে প্রেষণে অন্যত্র কাজ করছেন পাঁচজন। যারা আছেন, তাদের বিরুদ্ধেও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। বহির্বিভাগের ডিউটি বেলা আড়াইটা পর্যন্ত হলেও চিকিৎসকরা তা মানেন না। সম্প্রতি দুপুরে গিয়ে বহির্বিভাগের কক্ষ বন্ধ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু তাহেরের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগে কাজ চলে আউটসোর্সিং কর্মীদের দিয়ে।
রোগীদের তুচ্ছ কারণে জামালপুর বা ময়মনসিংহে রেফার করার অভিযোগও রয়েছে। গত সপ্তাহে সামান্য ঠোঁট ফাটার চিকিৎসার জন্য এক রোগীকে জামালপুরে রেফারের প্রস্তুতি নিলে স্বজনরা দায়িত্বে থেকে রোগীকে সারিয়ে তোলেন। ৩৬ জন সেবিকা (নার্স) কক্ষ ছেড়ে রোগীদের কাছে যান না বলে অভিযোগ। তাছাড়া প্রসূতি বিভাগে টাকা ছাড়া প্রসব করানো হয় না, টাকা না দিলে পাঠানো হয় ক্লিনিকে। হাসপাতালের প্রাচীর ঘেঁষে ডজনখানেক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলে দালাল চক্র চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়।
জামালপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি ৫০ শয্যার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নতি করার ঘোষণা দিয়েছেন।



