সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে কত টাকার প্রয়োজন হতে পারে তা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। একই সাথে সংস্থাটি রাজস্ব আদায়ে উন্নতি, বাংলাদেশ ব্যাংক সংস্কার, মুদ্রাবিনিময় হারকে আরো বাজারভিত্তিক ও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে এই পরামর্শ দেয়া হয় বলে জানা গেছে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এক সপ্তাহের সফরে বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছেন।
গতকাল বেলা ১টায় অর্থমন্ত্রীর সাথে এই প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় ওই বৈঠক বাতিল করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরে আইএমএফ মিশনের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সাথে নতুন প্রোগ্রাম হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণœ করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেয়া আইএমএফের আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। সেই কর্মসূচিতে এমন অনেকগুলো শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।এ কারণে বর্তমান সরকার আগের প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে এসেছে। এ সময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা নিয়ে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসানীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরো সহজ ও আধুনিক করা হবে।
জানা গেছে, আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে গতকাল দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় অর্থসচিব মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সাথে। এরপর অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে আইএমএফ মিশন। সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা (আরএসএফ) কর্মসূচি। এ কর্মসূচির প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলোয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্য মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নতুন নিয়োগ, জনবলকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সূত্র বিষয়ে আইএমএফ সাথে কথা হয়।
আইএমএফ সাথে একটি নতুন ঋণ চুক্তি করতে চায় সরকার। এ জন্য অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আইএমএফ’কে একটি চিঠিও দেয়া হয়েছে। সরকার চাচ্ছে এই সংস্থার কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা। এই ঋণসহায়তা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বর্তমানে আইএমএফ মিশনটি বাংলাদেশ সফর করছে।



