রাজধানীর বাজারে কিছুটা স্বস্তি কমেছে ডিম-মুরগি ও বেশির ভাগ সবজির দাম

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১০ টাকা কমেছে। একই সাথে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমে এসেছে। সবজির বাজারেও কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে মাছ ও গরুর গোশতের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। এমন পরিস্থিতিতে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১০ টাকা কমেছে। একই সাথে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমে এসেছে। সবজির বাজারেও কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে মাছ ও গরুর গোশতের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। এমন পরিস্থিতিতে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং টানা বৃষ্টিতে নতুন করে ফসলের ক্ষতি না হলে সবজিসহ কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক ডজন ডিম এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল তা ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় নেমে এসেছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। বাজারে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দুয়ারীপাড়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। বর্তমানে ব্রয়লার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে।

অন্য দিকে মাছের বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, একই মাছের দামও দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হচ্ছে।

এ দিকে চাষের পাঙ্গাশ মাছ কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশী কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের কিছু জাতের দাম কেজিতে এক হাজার টাকারও বেশি।

মাছ কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে পাঙ্গাশ ১৮০ টাকার আশপাশে পাওয়া গেলেও এখন ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক মাসের ব্যবধানে তেলাপিয়ার দামও বেড়েছে। বর্তমানে কেজি ২৬০ টাকা দরে তেলাপিয়া কিনতে হচ্ছে।

মিরপুর-৬ বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, মাছের দাম মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। তবে বাজারে প্রতিদিনই ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। সকাল ও বিকেলেও কখনো কখনো দামের পার্থক্য দেখা যায়।

এ দিকে সবজির বাজারে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বড় ধরনের স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। বাজারে বেশির ভাগ সবজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমি সরবরাহ কম থাকায় শিম এখন সবচেয়ে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়।

গতকাল বাজারে পটোল ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ও কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং কচু ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাকলা হালি ৪০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পল্লবী বাজারে বাজার করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রাজিব আহমেদ বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে সবজির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় প্রয়োজনীয় সবজি কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে।

পল্লবী বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সবজির বাজার তুলনামূলকভাবে কম। দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে দাম এত বেশি ছিল যে অনেক ক্রেতা আধা কেজি বা আড়াইশ’ গ্রাম করে সবজি কিনতেন। এখন বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, সামনে টানা বৃষ্টিতে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি না হলে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সবজির দাম এই পর্যায়ের মধ্যেই থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টতা বলছেন, রাজধানীর বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও অধিকাংশ সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও গোশতের বাজারে সেই প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতি নিত্যপণ্যের বাজারে স্থায়ী স্বস্তির জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন ও পরিবহন পর্যায়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।