গাজায় ইসরাইলি বোমা হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ১০

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। গত শনিবার গাজা সিটির একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। খবর আলজাজিরার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাটি একটি জাতিসঙ্ঘ পরিচালিত স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে স্থাপিত তাঁবুতে আঘাত হানে, যেখানে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো শত শত পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। বিস্ফোরণের সময় সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ শোকের মাতমে পরিণত হয়। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এই অঞ্চলে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৯৭১ হয়েছে এবং এক লাখ ৭৩ হাজার ১২ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা

ঈদুল আজহার প্রথম দিন। গাজা সিটির একটি ভবনের ছাদে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছিলেন ৩১ বছর বয়সী উইদাদ আল-হুসারি। শিশুদের নতুন পোশাক, মিষ্টি আর পারিবারিক আড্ডায় কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলে থাকার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে ভবনটি। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছাদ ভেদ করে আঘাত হানলে সৃষ্টি হয় বড় গর্ত। আতঙ্কে নিজের তিন বছর বয়সী ছেলে রফিককে কোলে নিয়ে দৌড়াতে গিয়ে সেই গর্তে পড়ে যান উইদাদ। কয়েক তলা নিচে আগুন জ্বলছিল, আর তিনি লোহার রড আঁকড়ে ঝুলে থাকেন।

পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে ও শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তবে সেই হামলায় সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও দুই নারীও ছিলেন। হামলায় আহত হন আরো ১৮ জন। উইদাদের চার বছরের ভাতিজি সারা গুরুতর আহত হয়ে এখনো নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছে। একই ভবনের আরেক বাসিন্দা জুহদিয়া আজ্জাম জানান, বিস্ফোরণের পর তার ১২ বছরের নাতনী সিদরা নিহত হয় এবং ১১ বছরের আরেক নাতনী শামের একটি পা কেটে ফেলতে হয়।