বাংলাদেশীরা আমিরাত ছাড়লেই অটো ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে

বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে দূতাবাস

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের ভিসা বাতিল হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এমন তথ্য জানিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দ্রততম সময়ের মধ্য একটি নিখুত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। সেখানে ইউএইতে বসবাসকারী সমস্যায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত ই-মেইলে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের ভিসা বাতিল হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এমন তথ্য জানিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দ্রততম সময়ের মধ্য একটি নিখুত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। সেখানে ইউএইতে বসবাসকারী সমস্যায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত ই-মেইলে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের আজমান শহরে অবস্থানরত আমিনুল ইসলাম নামের একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ‘আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারটি বন্ধই আছে। নতুন করে কাউকে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা দেয়া হচ্ছে এমনটি শুনিনি। তিনি বলেন, শুধু শ্রমবাজার নয়, ভিজিট ভিসায়ও বাংলাদেশ থেকে এখনো কেউ আসতে পারছে না। কেন এমন সমস্যা শুধু বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য হচ্ছে, তা তো বুঝতে পারছি না। তবে এই প্রশ্নের জবাব আমাদের বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্তা যারা দায়িত্বে আছেন, তারা ভালো বলতে পারবেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, এখন তো শুনছি যাদের ভিসা আছে তাদের মধ্য কেউ যদি আবুধাবি/দুবাই থেকে বের হন তবে তাদের ভিসাটা ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সাথে সাথে অটো বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ‘অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তারা ছুটি নিয়ে দেশে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।’

এ দিকে জানা যায়, এই বিষয়টি আবুধাবির (ইউএই) বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরে এসেছে। এ নিয়ে দূতাবাস থেকে সমস্যায় থাকা প্রবাসীদের প্রতি একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের তথ্যাদি প্রেরণ’ প্রসঙ্গে দূতাবাসের ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর ভিসা বাতিল হওয়ার সংবাদ দূতাবাসের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভিসা বাতিলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের জানানো যাচ্ছে, এ সংক্রান্ত একটি সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং হালনাগাদ ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে আবেদনকারীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, এমিরেটস আইডি নম্বর, পেশা, কোম্পানি বা স্পন্সরের নাম, মোবাইল নম্বর, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিলের তারিখ, আবেদনকারীর বর্তমান অবস্থা ও বাংলাদেশে সর্বশেষ গমনের তারিখ, আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ এবং ই-মেইল নাম্বার দূতাবাসের ই-মেইল নাম্বারে দ্রুত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজারটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময় থেকেই বন্ধ হয়ে আছে। এরপর অন্তরবর্তী সরকার ইউএই সরকারের সাথে আলোচনা করে শ্রমবাজারটি খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। এর মধ্য শ্রমবাজার খোলা দূরের কথা, উল্টো দেশটির সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আরো শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তারা এখন বাংলাদেশীদের ভিসা বাতিলের দিকে এগিয়েছে।

যদিও ইউএই সরকার আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশীরা তার দেশে অপরাধ সংগঠনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। এ কারণেই ইউএই সরকার বাংলাদেশীদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী বাংলাদেশীরা মনে করছেন।