- ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদন
- ১৩ বছর ধরে চলমান খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন পেল না
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেল না। এই প্রকল্পে বার বার মেয়াদ বাড়ানো এবং ব্যয় বৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। দুই বছরের প্রকল্পটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলমান। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি কার জন্য হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। বার বার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি কার কারণে প্রকল্পটিতে বার বার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে সে ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন এই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তার সভাপতিত্বে সভায় তিন হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন তিন হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ এবং প্রকল্পের অধিকাংশ খরচ বা ব্যয় অস্বাভাবিক বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি-পিডব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট শিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্ত প্রকাশ করে দ্রুত সময়ে রেট শিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল, যা দেখে ভালো লাগতো। ঢাকা-বগুড়া সড়কেও গাছ নেই। নগরায়ণ নয়, গ্রামীণ পরিবেশ পছন্দ তার। তবে সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ফেরত পাঠানো খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ
একনেক সভায় উপস্থাপিত প্রকল্প দলিলের তথ্য ও পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শক প্রতিষ্ঠারে তথ্য বলছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের মূল ডিপিপি প্রায় ৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয় ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই। এরপর দফায় দফায় খরচ ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে (১ম বার ও ২য় বার) জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়নের নিমিত্তে বিশেষ সংশোধন করা হয়। ব্যয় না বাড়িয়ে ৩য় বার জুন ২০১৯ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
অনুমোদিত মূল ডিপিপি ও বিশেষ সংশোধিত ডিপিপি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ২০১১ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জমির মূল্য বৃদ্ধি, নতুন অঙ্গ হিসেবে ‘টি রোড’, অন্তর্ভুক্তিকরণ, সড়কের ডিজাইন পরিবর্তন এবং প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের রেট শিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী প্রণয়ন করায় প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। আর মেয়াদ জুলাই ২০১৩ হতে ৩০ জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের ২০২০ সালের ২১ জুলাই একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া ৪র্থ বার ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এই বারের মতো ব্যয় বাড়ছে ২৬ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মোট ব্যয় বাড়তো ১৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে
২৮২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়নে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’, ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’, এক হাজার ১৮৩ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘী থেকে ঈদমনি) যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ)’ প্রকল্প। খরচ বাড়ানো ছাড়া ৪র্থ বারের মতো মেয়াদ বাড়িয়ে ৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও-এ লিফট সংযোজন’, ৩৪৪ কোটি এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই বছরে বাস্তবায়নের জন্য ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ’, আরো ১৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে মোট ৪১১ কোটি ৬৩ লাখ ৫৯ টাকায় ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়)’, আরো ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা খরচ বাড়িয়ে মোট ৩৮ কোটি সাত লাখ ১৫ হাজার টাকায় ‘মাদরাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’, খরচ না বাড়িয়ে প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে ‘দেশের ৬৫৩টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন’, ২৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ বাড়িয়ে মোট এক হাজার ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।



