বাকৃবি প্রতিনিধি
স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাংকিংস-২০২৬’ এ ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। একইসাথে এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকৃবি ৯২তম এবং বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৪৩২তম স্থান অর্জন করেছে।
রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো: মকবুল হোসেনসহ অনুষদের সব বিভাগীয় প্রধান ও ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান জানান, সিমাগো মূলত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দেশ এবং গবেষণা প্রবন্ধের তুলনামূলক তালিকা প্রকাশ করে। এ বছর বিশ্বের ১০ হাজার ৮২৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ হাজার ৪৯১টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত এক হাজার ৩০৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭৮টি চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই তালিকায় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ।
তিনি আরো জানান, এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বৈশ্বিক অবস্থান ৫৯৩তম)।
এ ছাড়া তৃতীয় স্থানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১০৪তম), চতুর্থ স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর (১১৬২তম) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১২৮৫তম)। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এই অবস্থান ধরে রাখতে ও ভবিষ্যতের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে অনুষদের সব বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ ‘র্যাংকিং সেল’ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির বলেন, সিমাগো র্যাংকিংয়ে মূলত গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাব- এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘স্কোপাস’ ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধগুলোই মূল্যায়িত হয়। তবে গবেষণার ক্ষেত্রে প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো প্রকাশনা ও গবেষণাসংক্রান্ত খরচ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) থেকে যে বাজেট দেয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি সরকারিভাবেও এই খাতে আর্থিক বরাদ্দ একেবারেই নগণ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারিভাবে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ালে শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় থেকেই আরো সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে।



