নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বেগমবাজারে তার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতারা সকালে এই মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করেন।
দোয়া শেষে নেতারা বলেন, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল ১৯০৬ সালে ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকাকে রাজধানীর মর্যাদা দেয়ার পর উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতৃত্ব এর বিরোধিতা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি একটি পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার প্রস্তাবে সর্বসম্মতিক্রমে মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
নেতারা আরো বলেন, বাংলার মুসলমানদের উচ্চশিক্ষার অভাব ও অনগ্রসরতা দূর করতে তিনি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অপরিহার্যতা উপলব্ধি করেছিলেন। বঙ্গভঙ্গ রদের পর তারই ঐকান্তিক দাবির মুখে ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সম্মতি দেয়, যার জন্য তিনি জমিও দান করেছিলেন।
দলের অতীত ইতিহাস স্মরণ করে নেতারা উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনামলে মুসলিম লীগ ১৪ বছর ক্ষমতায় ছিল।
দলটির প্রশাসনিক পরিচালনায় কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়নি এবং কাউকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়নি।
মাজার জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন- মুসলিম লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, আকবর হোসেন পাঠান, শরীফ ইমরাউল ইসলাম মিলন, তারেক জমির সজীব, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মোল্লা, মামুনুর রশিদ এবং নুর আলম। বিজ্ঞপ্তি।



