জাতীয় সংসদে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় ভালোভাবে পর্যালোচনা করে তবেই বক্তব্য দেয়া উচিত।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা মন্ত্রীর পূর্বের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেয়া হবে; কিন্তু আরো এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও সেখানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি।’ তিনি জানতে চান, ঠিক কবে নাগাদ আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে।
জ্বালানিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা : জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে সার কারখানার তুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উনি বিদ্যুৎও চান, আবার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চান; কিন্তু গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। বিদ্যুৎপ্ল্যান্ট চালিয়ে রাখতে হচ্ছে বলেই আপাতত সেখানে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
মন্ত্রী আরো জানান, ‘গত ১৭ বছরে কোনো ড্রিলিং হয়নি। আমরা এবার ড্রিলিং শুরু করেছি। আশা করি নতুন গ্যাস পাওয়া গেলে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায়ও সংযোগ দেয়া যাবে।’
স্পিকারের কড়া বার্তা : ‘স্টাডি করে তারপর সংসদে প্রতিশ্রুতি দেবেন’
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি।’ তিনি ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’
বিদ্যুতের ঘাটতি নেই দাবি মন্ত্রীর : এর আগে একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো: আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি না থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কট, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।
তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জ্বালানি বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব বৃদ্ধি, গ্রাহক সচেতনতা কার্যক্রম এবং ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।



