রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সঙ্ঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠন ও মেরামতের কাজে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় ইরানি হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে যদি নতুন করে হামলা হয়, সে ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এই তথ্য এমন একসময় সামনে এলো, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি না দিলে কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। মার্কিন ও ইরানি পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চললেও শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যে সম্পদের কথা বিবেচনা করছে, তা কেবল জব্দ করা অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এ দিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী শনিবার তেহরানে গিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর গোরুক ও কেশম দ্বীপ এলাকায় ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে আরো দু’টি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
অন্য দিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বাহরাইনেও হামলার সতর্ক সঙ্কেত বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। তিন মাস ধরে চলা সঙ্ঘাত বন্ধে অন্তর্বর্তী চুক্তির জন্য পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। ইরান চায় তেলের আয় থেকে জমে থাকা অর্থে প্রবেশাধিকার, জ্বালানি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত। যুদ্ধের কারণে সেখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা হলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।



