বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে চীনা মিডিয়া ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ ইতিবাচক মনোভাব ও উচ্চ প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তার প্রথম চীন সফর (মালয়েশিয়া সফরের ঠিক পরপরই), যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো।
এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে চীনা নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলো বেশ ইতিবাচক।
চীনা মিডিয়ার প্রতিবেদন ও দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী প্রধান প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. নতুন সরকারের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার : চীনা মিডিয়া ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, চীন এই সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে কৌশলগত যোগাযোগ শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বেইজিং আশা করছে যে, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রথাগত বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বিশ্বাস অক্ষুণœ থাকবে।
২. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও উচ্চমানের সহযোগিতা : চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর (যেমন চায়না ডেইলি) মতে, বাংলাদেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই সফরের মাধ্যমে চলমান বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং উচ্চমানের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে চীনা পক্ষ আশা করছে।
৩. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি : দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য মূলত আমদানিনির্ভর, যার ফলে বাংলাদেশের বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। চীনা মিডিয়াগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও কৃষিপণ্য চীনে রফতানি বাড়ানোর মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বেইজিং আশাবাদী।
৪. বৈশ্বিক মঞ্চে সমন্বয় ও অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতা : সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। চীনা মিডিয়ার প্রত্যাশা, এই সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও দুই দেশ একসাথে কাজ করবে এবং তাদের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ’ বা সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



