গিয়াস উদ্দিন রানা ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চারটি প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের নামে দু’টি স্পেশাল টিআর এবং দু’টি সাধারণ টিআর/কাবিখা বরাদ্দ দেখিয়ে প্রায় ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
অভিযোগের তির বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ বশীর আহম্মেদের দিকে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ধর্মপাশার ছয়টি ইউনিয়নে ৪৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরকে ‘কলকাকলী বিদ্যাপীঠ’ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন দেখিয়ে এমপি স্পেশাল ফান্ড থেকে দু’টি প্রকল্পে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে সাধারণ টিআর ও কাবিখা ফান্ডের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় থেকে ওই একই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে আরো দু’টি প্রকল্পের টাকা তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেনের যোগসাজশে বশীর আহম্মেদ এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে বশীর আহম্মেদ জানান, প্রকল্পের এক লাখ ২০ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এবং বাকি টাকা তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুহেল মিয়া বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজই হয়নি, পিআইও সেগুলোর চূড়ান্ত বিল পাস করেছেন। টাকা দিলেই বিল মেলে, পরিদর্শনের প্রয়োজন পড়ে না। পিআইও জাকির হোসেন বলেন, এমপি নিজেই ৪৩টি প্রকল্প অনুমোদন ও কমিটি গঠন করেছেন। কাজ না হলেও পর্যায়ক্রমে তা করার নির্দেশ রয়েছে। তবে প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন না করার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, শিগগিরই পরিদর্শন করবেন।



