কুলিয়ারচরে ফের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

Printed Edition
কুলিয়ারচরে ফের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
কুলিয়ারচরে ফের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি জায়গা থেকে আবারো মূল্যবান গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে সরকারি সম্পদ বারবার লুট হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আরএস ১০৬৬৭ দাগের সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ২০ থেকে ২৫টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করা হয়।

পরে গত ১৫ জানুয়ারি নাছিমা আক্তার কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির লিখিত অভিযোগ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো মামলা বা কার্যকর তদন্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে একই এলাকা থেকে আরো তিনটি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগও ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলি আদেশ জারির পরদিন থেকে ২৪ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে একই স্থান থেকে আরো তিনটি সরকারি গাছ কেটে নেয়া হয়। গাছ কাটার ভিডিও উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হলেও ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা না করে গত ২৬ জুলাই নাছিমা আক্তার আবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহায়ক রুকন উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। গাছ কাটার ঘটনায় থানায় দু’টি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের নাম অভিযোগে উল্লেখ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। বাদিকে নাম উল্লেখ করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।