২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩০, ১৫ জিলহজ ১৪৪৫
`

প্রতারণার অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেফতারের পর রিমান্ডে

প্রতারণার অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী নোবেল গ্রেফতারের পর রিমান্ডে। - ছবি : সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে না গিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেফতার করে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (২০ মে) নোবেলের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আদালতে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ বলছে, সম্প্রতি শরিয়তপুরে একটি প্রোগ্রামের জন্য অগ্রিম ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া নোবেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৬ মে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘এসএসসি ব্যাচ ২০১৬’-এর প্রতিনিধি মো: সাফায়েত ইসলাম এ মামলা করেন। ১৭ মে আদালত মামলা আকারে এজাহার গ্রহণ করেছেন। এজাহারে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০১৬-এর প্রথম পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য মাইনুল আহসান নোবেলের সাথে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঠিক করা হয়। পরে নোবেলকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টেসহ সর্বমোট ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা দেয়া হয়। তবে অনুষ্ঠানে না গিয়ে প্রতারণা করে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিন মদ্যপানের সাথে তিন থেকে চারটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকতেন নোবলে। যার কারণে অনুষ্ঠানের টাকা নিয়েও সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন না। এছাড়া নানা উচ্ছৃঙ্খল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে তার সাবেক স্ত্রীকেও ব্যপক মারধর করতেন। তার সাবেক স্ত্রীও একাধিকবার অভিযোগ করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এছাড়াও নোবেল বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম করতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় মঞ্চ ভেঙে ফেলেন এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তার স্ত্রীও আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে যে, তিনি টাকা নিয়ে প্রোগ্রাম না করে এসব টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আমরা নিয়ে এসেছি। মামলার অভিযোগ ও তার সাবেক স্ত্রী মাদক সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে ডিবি কার্যালয়ে নোবেলের সাবেক স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল মাহমুদ অভিযোগ করে বলেছেন, নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে কয়েকজন শিল্পী ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করা বিমানের এয়ার হোস্টেজ জড়িত। তারাই নোবেলকে মাদক সাপ্লাই দিতেন।


আরো সংবাদ



premium cement