২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৫ শাবান ১৪৪৫
`

ইসরাইলের ২ বন্দী উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর তথ্য হামাসের

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওসামা হামদান - ফাইল ছবি

গাজা উপত্যকা থেকে দুই বন্দীকে উদ্ধার নিয়ে ইসরাইলিরা যে তথ্য দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। বৈরুতভিত্তিক হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওসামা হামদান ওই ঘটনাকে স্রেফ 'পরাজিত সেনাবাহিনীকে বাজারজাত করার কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হামদান বলেন, চলমান যুদ্ধে, বিশেষ করে খান ইউনিসে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টায় এই উদ্যোগ গ্রহণ হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এখানে প্রতিরোধের মুখে পড়েছে এবং আর কোনো বন্দীকে মুক্ত করতে পারছে না।

হামদান ইসরাইলি ভাষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ইসরাইলিরা যে দুজনকে উদ্ধারের কথা ঘোষণা করেছে, তারা হামাসের হেফাজতে ছিল না। তারা একটি বেসামরিক পরিবারের হাতে আটক ছিল। এটি ইসরাইলি ভাষ্যের নির্ভুলতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিরোধ আন্দোলনের অর্জনকে তুলে ধরে হামদান উল্লেখ করেন যে চার মাস যুদ্ধের পরও হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসসাম ব্রিগেড এখনো ১৩৪ জন বন্দীকে ধরে রাখতে পেরেছে। এটি একটি বিরাট অর্জন।

তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইল যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তা থেকে মুখরক্ষার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে এই দুই বন্দীর মুক্তিকে দেখছে হামাস।


রাফায় পরিকল্পিত হামলার বিরূদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ইসরাইলের প্রতি হুঁশিয়ারি
ইসরাল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখ ফিলিস্তিনিসহ ১৪ লক্ষাধিক জনঅধ্যুসিত নগরী সর্বদক্ষিণের রাফায় পরিকল্পিত স্থল অভিযানের জন্য ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলো গত কয়েক দিন ধরেই, তেল আবিবকে রাফাহ’য় ইসরাইলি বাহিনীর পরিকল্পিত স্থল অভিযানে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত হামলার আগে, তিনি সেনাবাহিনীকে জনাকীর্ণ রাফাহ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে এই মর্মে মারাত্মক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে যে রাফা’য় হামলার পরিকল্পনা অবরুদ্ধ ছিটমহলে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস সংঘর্ষ শুরু’র পর থেকে ইতোমধ্যে অবনতি হওয়া মানবিক পরিস্থিতিকে আরো বিপর্যস্ত করে তুলবে। গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিশরের পাশাপাশি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কাতার কঠোর ভাষায় রাফাহ’য় ইসরায়েলি হামলার হুমকি’র নিন্দা করেছে। শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল রাফাহ’র মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

২০২০ সালে ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন উভয় দেশই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবও গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিকের 'শেষ অবলম্বন' রাফাকে ইসরাইলের তাণ্ডব সৃষ্টির লক্ষ্যবস্তু করার 'অত্যন্ত গুরুতর প্রতিক্রিয়া' সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শউকরি জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিকে দেশটির প্রত্যাখ্যান নিশ্চিত করেছেন। ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়াকে ইসরাইলের 'ধারাবাহিক নীতি' বলে অভিহিত করে, এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে মিসর। জর্ডান যুদ্ধের অবসান ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে তাদের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বা বাইরে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতিকে সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল-গীত কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলের উদ্দেশ্যকে 'আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি' বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এদিকে, গত রোববার নেতানিয়াহু এবিসি নিউজের সাথে এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে বলেন, বহির্বিশ্বের উদ্বেগ কমানোর এক আপাত পদক্ষেপ হিসেবে, বেসামরিক জনগণের জন্য নিরাপদ প্রস্থানের বিষয়ে একটি 'বিশদ পরিকল্পনা' তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা রাফাহ নগরী ছেড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, হামাস পরিচালিত আল-আকসা টিভি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাস এর এক সিনিয়র নেতাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামাস রাফায় ইসরাইলি স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি বন্দী বিনিময় আলোচনাকে 'উড়িয়ে দেবে'। একই দিনে, নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় আটক বন্দীদের মুক্ত করার চলমান প্রচেষ্টা ও ফিলিস্তিনি ছিটমহলে আরও সাহায্যের সুবিধার্থে ফোনে আলোচনা করেন।

একজন ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তা সিনহুয়াকে বলেন, কথোপকথনটি জিম্মিদের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত ছিল। ওই বন্দীদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন এখনও হামাসের গত বছর ৭ অক্টোরের হামলাকালে অপহৃত হয়ে গাজায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক রিডআউটে বলা হয়, বাইডেন নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে আশ্রয় নেয়া প্রায় দশ লাখ লোকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছাড়া, রাফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালানো উচিত নয়। বিবৃতি অনুসারে, বাইডেন 'হামাসকে পরাজিত দেখার অভিন্ন লক্ষ্য' পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। তবে, তিনি গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা বাড়ানোর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো ৬৭ হাজার ৭৮৪ জন আহত হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা, সিনহুয়া এএফপি এবং অন্যান্য


আরো সংবাদ



premium cement
প্রাথমিকে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে ‘ছোট্ট’ জ্যোতির মুখোমুখি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পুরুষ! টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই নিবন্ধন বিষয়ে বাংলাদেশের করণীয় বিষয়ে মত বিনিময় সভা সন্দেহজনক লেনদেনের অর্থ কোথায় যায়! পাকিস্তানে অধিবেশনের আগে ‘সংরক্ষিত আসন বণ্টন’ চান প্রেসিডেন্ট আলভি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামীকাল মুখোমুখি হবে কুমিল্লা-রংপুর নোয়াখালীতে ভোটের রাতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ : সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বছর না যেতেই ফের বাড়ছে বিদ্যুতের দাম ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে গাজায় দুই মাসের শিশুর মৃত্যু শবে-বরাত উপলক্ষে ইবিতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার করার অনুরোধ ঢাকার

সকল