জাম্বিয়ার বিরোধীদলীয় নেতাকে পুলিশের তলব

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি যৌথ দল ‘গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে আসছে।’ তবে কী ধরণের হুমকির বিষয়ে তদন্ত চলছে, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ব্রায়ান মুন্ডুবিলে
ব্রায়ান মুন্ডুবিলে |সংগৃহীত

জাম্বিয়ার নির্বাচনে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিন পর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কথিত হুমকির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলেকে বৃহস্পতিবার রাতে তলব করেছে পুলিশ।

১৩ আগস্টের নির্বাচনে দ্বিতীয় হন মুন্ডুবিলে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হন। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুন্ডুবিলে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি যৌথ দল ‘গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে আসছে।’ তবে কী ধরণের হুমকির বিষয়ে তদন্ত চলছে, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এতে বলা হয়, দলটি মুন্ডুবিলে ও তার রানিংমেট মেকেবি জুলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।

ওই দু’জনের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন ‘উদ্বেগজনক কর্মকাণ্ড’ ঘটেছে।

তাদের জোট বিদ্রোহ বা মিলিশিয়া কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল- পুলিশের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন মুন্ডুবিলে ও জুলু।

রাজধানী লুসাকায় পুলিশের অভিযানের পর গত সপ্তাহে মুন্ডুবিলে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সাথে আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়।

১৪ আগস্টের ওই অভিযানে সাবেক মন্ত্রিসভা সদস্য মুততওয়ে কাফওয়ায়া গুলিতে নিহত হন।

ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদলীয় নেতাসহ ১১ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার অভিবাসন কর্মকর্তারা জানান, বিরোধী জোটের মহাসচিবকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতাকে আশ্রয় দেয়া সংগঠনটিকে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, ‘কোনোভাবেই তাদের কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নেই।’

গত সপ্তাহের নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, বিরোধীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতার, অপহরণ ও সহিংসতার অভিযোগে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমনে ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে সতর্ক করেছে। বিরোধী দলের সদস্যদের নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক অবিলম্বে বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক টাইগেরে চাগুতাহ বলেন, ‘মুততওয়ে কাফওয়ায়াকে হত্যার খবর গভীর উদ্বেগজনক।’

আটক সব ব্যক্তির আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে অবিলম্বে যোগাযোগের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এক সময় আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ছিল তামা উৎপাদনকারী দেশ জাম্বিয়া। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার পর দেশটিতে প্রতিবারই প্রেসিডেন্টের পরিবর্তন হয়েছে ব্যালটের মাধ্যমে। ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ শান্তিপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে দেশটির।

তবে ২০২১ সালে হিচিলেমা ক্ষমতায় আসার পর সেই সুনাম চাপে পড়েছে। ভিন্নমতের জন্য রাজনৈতিক পরিসর সঙ্কুচিত হয়েছে এবং বিরোধীদের ওপর চাপ বেড়েছে। বাসস