ক্রোয়েশিয়ায় আগুনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যাওয়ার পর অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ব্রাচ দ্বীপ থেকে রোববার রাতে প্রায় ২৩০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রবল বাতাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় রোববার মধ্যরাতের কিছু আগে দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর মিলনা ও আশপাশের বসতিগুলোর বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক করে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ কমান্ড জানায়, ‘অত্যন্ত কঠিন একটি রাতের পর আজ সকালে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।’
অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সকাল থেকে চারটি কানাডেয়ার জলবাহী উড়োজাহাজ আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ৬৯টি যানবাহনের সহায়তায় ২২০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
মিলনার কাছাকাছি আগুনের হুমকিতে থাকা এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে হারবারমাস্টার কার্যালয়ের কয়েকটি নৌযান ও সামুদ্রিক পুলিশ বেসরকারি নৌযানের সাথে কাজ করেছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা হিনা জানিয়েছে, এর ফলে প্রায় ২৩০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কমান্ডার স্লাভকো তুসাকোভিচের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়।
তুসাকোভিচ বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বিপুলসংখ্যক আবাসিক ভবন রক্ষা করেছেন এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন। কয়েকটি ভবনের সম্মুখভাগ ও ছাউনির ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।’
হিনা জানায়, এক জ্যেষ্ঠ অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগুনে মোট প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর পাইনবন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস হয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ক্রোয়েশিয়াতেও এবার প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম তাপ ও খরার সময়কাল আরো ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস


