রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটিকে মস্কোর চালানো অন্যতম বড় হামলা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে ডিনিপ্রো শহরে ছয়জন এবং রাজধানী কিয়েভে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতের এই বিমান হামলায় শিশুসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গত সপ্তাহের এক ঘটনার জের ধরে এই হামলা চালানো হলো। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের এক দখলকৃত এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি ছাত্রাবাসে কিয়েভের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো পদ্ধতিগতভাবে বড়সড় আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ইউক্রেন অবশ্য দাবি করেছিল, তারা রাশিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল। এরপরই ইউক্রেনের বেশিভাগ অংশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, শত্রু পক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিচে অনেকেই চাপা পড়ে আছেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কিয়েভে এক ডজনেরও বেশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফাঁকে ফাঁকে ড্রোনের একটানা গুঞ্জন বাজছিল।
মেয়রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কিয়েভের একটি পেট্রোল পাম্প, একটি নির্মাণাধীন এলাকা, দু’টি বাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। হামলার কারণে পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বের শহর খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানিয়েছেন, সেখানেও রাতের বেলা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আরো দক্ষিণে জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি শিল্প কারখানাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর সাত শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল, যার মধ্যে ৬৪২টি তারা ভূপাতিত করতে পেরেছে।
এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সকালে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনের আগের হামলাগুলোর জবাবেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা গেছে।
এদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদর ক্রাই জরুরি পরিস্থিতি কেন্দ্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর সেখানকার ইলস্কি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়, তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র : বিবিসি



