মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠানোর আহ্বান জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের

তুর্ক বলেন, পর্যালোচনাধীন সময়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দল
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দল |সংগৃহীত

মিয়ানমারের ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট নিরসনে বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে দেশটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বা আইসিসি পাঠানোর জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তুর্ক মিয়ানমারে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জেট জ্বালানি এবং এমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব সামগ্রী মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করতে পারে, এমন সুস্পষ্ট ঝুঁকি থাকলে এসব সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে।

তুর্ক বলেন, পর্যালোচনাধীন সময়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনো বিমান হামলা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ব্যাপক ও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন, যৌন ও লৈঙ্গিক সহিংসতা, গুম, জোরপূর্বক শ্রম এবং সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মাধ্যমে জোর করে নিয়োগ।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন টুর্ক। তাঁর ভাষায়, শুধু ‘পরিমিত সম্পৃক্ততা’ নয়, প্রয়োজন ‘মানবাধিকারভিত্তিক সম্পৃক্ততা’। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির শর্তেই এমন সম্পৃক্ততা হতে হবে।

বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রোহিঙ্গা ও অন্য শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন প্রত্যাবাসন ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হবে। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো শরণার্থীকে এমন দেশে জোর করে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।