ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস। ফাঁস হওয়া নথিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিছু স্থাপনার কথিত নকশা, সরবরাহকারীদের তথ্য, পরিদর্শন প্রতিবেদন, বৈঠকের নথি, যন্ত্রপাতি মূল্যায়ন এবং বিমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন বুধবার (১৫ জুলাই) জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম ভারতের সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প।
কেন্দ্রটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি রিলায়েন্স গ্রুপ রয়টার্সকে জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের তথ্যকেন্দ্র সেবাদাতা ইয়োটা পরিচালিত একটি সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের তথ্যের আংশিক নিরাপত্তা ভেদ করা হয়েছে। বিষয়টি ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেনি।
রয়টার্স ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের তারিখযুক্ত নথিগুলো পর্যালোচনা করলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ওয়ার্ল্ড লিকসের ওয়েবসাইটে রিলায়েন্স-সংক্রান্ত মোট ৮ লাখ ৫৮ হাজার ফাইলের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজারকে সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে মনে হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের বায়ু চলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার কথিত নকশা, একটি কমন কন্ট্রোল রুমের পূর্ণ বিন্যাস, অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকা, ২০২৪ সালের যৌথ পরিদর্শনের নথি ও যন্ত্রপাতির ছবি রয়েছে। এছাড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় ৩ বা ৪ নম্বর ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো বিমাও করা হয়েছে।
২০১৮ সালে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি পায়। দুটি ইউনিটই এখনো নির্মাণাধীন। ২০২৭ সালে চালু হলে এগুলো থেকে মোট ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ করপোরেশন ও দেশটির প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইয়োটা জানিয়েছে, ২৯ মে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করা হয় এবং র্যানসমওয়্যার চালানোর চেষ্টা ঠেকানো হয়। তবে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স জানায়, বাইরের একটি গোষ্ঠী তথ্য ফাঁসের দাবি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নথি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহায়ক অবকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খল ও নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করা সম্ভব। তবে প্রকাশিত নথিগুলোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত রোসাটম সরবরাহ করা পারমাণবিক চুল্লির মূল ব্যবস্থার কোনো তথ্য নেই।
ওয়ার্ল্ড লিকস এর আগে নাইকি ও টাটা গ্রুপকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল। গত বছর ভারতের ২ কোটি ৮৯ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পর বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ।
২০১৯ সালেও কুদানকুলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ব্যবস্থা অক্ষত ছিল।



