নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ১৩ দিন পরও নিখোঁজ ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মীর সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁদের মধ্যে ১২১ জন বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে রাশুয়া জেলার ক্ষতিগ্রস্ত চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়জনও রয়েছেন। তাঁদের চারজন এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত আইনপ্রণেতা শ্রী রাম নেউপানে। তিনি বলেন, চিলিমে প্রকল্পে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজের কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা মনে করছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে কেউ কেউ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন। কারণ এসব সুড়ঙ্গে বাতাস জমে থাকার জায়গা রয়েছে। কোথাও কোথাও কর্মীদের থাকার জন্য কক্ষ ও খোলা জায়গাও আছে।
গত কয়েক দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় দুই জলবিদ্যুৎকর্মী। একই দিন মাটিচাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে এক নেপালি নারীকে জীবিত বের করে আনা হয়।
১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবে নেপাল ও বিদেশে দেশটির সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ১৩তম দিনকে শোক পালনের শেষ দিন হিসেবে ধরা হয়। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহের একটি অংশ ধসে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর নদীতে নেমে এ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের শহর ও গ্রাম ভেসে যায়। নেপাল ও তিব্বতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জরুরি সহায়তা হিসেবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, বেইলি সেতু, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, সুড়ঙ্গ উদ্ধারের পোশাক ও মহামারি প্রতিরোধের সরঞ্জাম চেয়েছে নেপাল।



