আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবানের প্রত্যাবর্তনের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা শেষে দেশে শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনার দাবি তুলে শনিবার কাবুলের ঐতিহ্যবাহী 'লোয়া জিরগা' মিলনায়তনে উদযাপনে মেতে ওঠেন তালেবান নেতা ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এবিসি নিউজ ডট কম শনিবার (১৫ আগস্ট) জানিয়েছে, তালেবানের এই পঞ্চম বর্ষপূর্তির মহাসমারোহের দিনে দেশটিতে তীব্র মানবিক ও মানবাধিকার সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। বিশেষ করে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষা অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা তালেবানের হাতে আসে। সে সময় আফগানিস্তানের পশ্চিমাপন্থীদের কাবুল বিমানবন্দরে দেশটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।
ক্ষমতায় আসার আগে নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি তালেবান প্রশাসন।
লোয়া জিরগায় আয়োজিত এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শীর্ষ তালেবান কর্মকর্তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন বিদেশী প্রতিনিধি এবং হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক। তারা বক্তৃতায় মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে আফগানিস্তানের 'মুক্তির' বিষয়টি উদযাপিত করেন। তবে এই গোটা আয়োজনে কোনো নারীর উপস্থিতি ছিল না। আন্তর্জাতিকভাবে এখনো তালেবান সরকারকে কেবল রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, 'আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমাদের মাতৃভূমিকে চিরদিনের জন্য দখলদারিত্ব, আগ্রাসন, যুদ্ধ ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করা হয়। শরিয়াহভিত্তিক সরকারের অধীনে আমাদের দেশের মানুষ যেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে বাঁচতে পারে।'
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার রিচার্ড বেনেট এক ভিডিও বার্তায় বলেন, 'যুদ্ধ শেষ হলেও প্রকৃত শান্তি এসেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নারীদের ওপর এই নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।'
তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী মৌলভি হায়াতুল্লাহ মহাজির ফারাহি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বে গত ৫ বছরে তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। তবে নারী শিক্ষা নিয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।


