চলতি বছরের শুরুতে বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ চারজন ইরানি পাইলটকে পানির ওপর সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা থেকে দ্রুত স্থলভাগে এবং সুসজ্জিত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য কাতারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। আটক এসব পাইলটের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান এ অনুরোধ জানিয়েছে।
মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএস শনিবার (২২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কুয়েত এসব পাইলটের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে সহায়তা করতে সম্মত হওয়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে বলে খবর দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মিজান-এর বরাত দিয়ে জেনারেল বাকেরজাদেহ শনিবার বলেন, "পানির ওপর ইরানি পাইলটদের আটকে রাখার স্থানটি একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কাতার সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে তাদের স্থলভাগে এবং একটি উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তর করা।"
এর আগে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইলটদের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের সহায়তায় রেড ক্রসের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন বাকেরজাদেহ। একই সঙ্গে কুয়েতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ওই পাইলটদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে কুয়েতি সরকারের প্রাথমিক সম্মতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "এই পদক্ষেপটি আমাদের এই প্রিয় ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তির বিষয়ে এক আশার আলো তৈরি করেছে।"
তবে গত মার্চ মাসের সংঘাতের পর ইরানি পাইলটদের কাতারে বন্দী করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দোহা। গত সপ্তাহে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, "ইরানি পাইলটদের আটক রাখার বিষয়ে যেসব দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা আমরা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করছি।"
তিনি আরও জানান, কাতার নিখোঁজ পাইলটদের দেহাবশেষের অনুসন্ধানে নিজেদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করেছে। ইতোমধ্যে একজন পাইলটের দেহাবশেষ ফেরত পাঠাতে ইরানের সাথে সমন্বয়ও করা হয়েছে। এমনকি উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানাতে গত এপ্রিলে ইরানকে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।



