প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মুখেও ইরান আরো উন্নত এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের পতাকা
ইরানের পতাকা |সংগৃহীত

শত্রুভাবাপন্ন পশ্চিমা মিডিয়ার সব দাবি উড়িয়ে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মুখেও তারা আরো উন্নত এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা শাখার ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসেফি খোশকালব একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিদেশী গণমাধ্যমের দাবিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে চলেছে। পানি ও স্থল সীমান্তের পুরো নিরাপত্তা এবং ইরানের আকাশে কোনো শত্রু বিমানের উপস্থিতি না থাকাটাই প্রমাণ করে আমাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা গতিশীল, চৌকস ও প্রস্তুত।’

ইউসেফি খোশকালব জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলি শাসনামলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী তাদের অনন্য ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত ড্রোন শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। রণক্ষেত্রে এমন উন্নত ড্রোনের ব্যবহার এখন ইরানের বাহিনীর কাছে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই ধারা আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই শত্রুর ৪০ দিনের অতর্কিত আগ্রাসনের সময় ইরানের কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তাতে ইরানের অগ্রযাত্রাকে থামেনি।

ইউসেফি খোশকালব বলেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আমরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি।’

যুদ্ধক্ষেত্র এবং বিমান যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর সরঞ্জামের ব্যবহার এখন ইরানের নিত্যদিনের কাজ।

এদিকে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক ৪০ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যেই ইরান আরো উন্নত ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র: প্রেসটিভি