ইরানের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি ইসরাইলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং কিছু ঘাঁটি বা কার্যক্রম ইসরাইলে সরানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর এবার সেখানকার কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরাইলে সরিয়ে নেয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার (২৭ জুন) মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের উপর মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত হানে। এতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এখন বাহরাইনের ঘাঁটি সংস্কার করার পাশাপাশি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে নিজেদের উপস্থিতি গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই ঘাঁটির একটি বড় অংশ এখন ইসরাইলে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইরানের একের পর এক নিখুঁত ও জোরাল প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে তাদের সেই উদ্দেশ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্সসহ ডজনখানেক ভবন গুঁড়িয়ে দেয় ইরান। পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির আসল রূপটি আড়াল করার চেষ্টা করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

টানা ক্ষয়ক্ষতির মুখে যুদ্ধ বন্ধে সম্প্রতি ইরানের সাথে ৬০ দিনের জন্য ইসলামিয়াবাদ সমঝোতা স্মারক সই করতে বাধ্য হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির পর মার্কিন জনমতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটারই মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান চালানোটা সম্পূর্ণ ভুল ও অর্থহীন ছিল। একই সাথে ৬১ শতাংশ মার্কিনি বিশ্বাস করেন, এত কিছুর পরও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে রোখা যাবে না।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় শিবিরের মানুষই এখন মেনে নিচ্ছেন যে লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক শক্তি হয়ে ওঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।