রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের

সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ২০১৫ সালে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আরব-কুর্দি জোট হিসেবে গঠিত হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে এসডিএফ
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে এসডিএফ |সংগৃহীত

কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নেতা বৃহস্পতিবার বাহিনীটিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি প্রশাসনের কার্যত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে কাজ করা এসডিএফ ছিল মার্কিন সমর্থনপুষ্ট। উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও বাহিনীটি ছিল সামনের সারিতে।

সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ২০১৫ সালে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আরব-কুর্দি জোট হিসেবে গঠিত হয়। ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন ও সামরিক বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এসডিএফের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে সরে আসে। এর ফলে এসডিএফ একটি চুক্তিতে সম্মত হয় এবং দামেস্কের অধীন কেন্দ্রীয় সিরীয় রাষ্ট্রের সাথে তাদের বেসামরিক ও সামরিক কাঠামোর একীভূতকরণ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার এসডিএফের নেতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে বাহিনীটির একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বছরের পর বছর সিরিয়ার সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত এসডিএফের বিলুপ্তি দেশটির কুর্দিদের জন্য একটি যুগের অবসান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৪ সালে সিরিয়ার শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে কুর্দিরা স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখেছে। আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ছেড়ে দামেস্কের নতুন মার্কিনপন্থী কর্তৃপক্ষকে সমর্থন দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ২০১৫ সালে এসডিএফ গঠিত হয়। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কোবানেতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীকে পরাজিত করা কুর্দি যোদ্ধাদের দক্ষতায় ওয়াশিংটন মুগ্ধ হয়েছিল। এমন নির্ভরযোগ্য অংশীদারই খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসডিএফ নেতৃত্ব দেয়। চার বছর পর সিরিয়ায় আইএসকে ভৌগোলিকভাবে পরাজিত করা হয়। একপর্যায়ে এসডিএফের যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছায়। এতে কুর্দি ও আরব উভয় সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। বাহিনীটি সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত।

তবে জানুয়ারিতে সংঘর্ষে কুর্দিরা সরকারি বাহিনীর কাছে বড় অংশের ভূখণ্ড হারানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কুর্দিদের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে একীভূত হবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বাহিনী কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাক্কা ও দেইর ইজোর প্রদেশ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এসডিএফের আরব সদস্যরাও ব্যাপকভাবে দলত্যাগ করেন।

সিরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস বালানশের মতে, এতে এসডিএফের শক্তি আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসে।

বালানশে বলেন, এসডিএফের মূল শক্তি অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) এবং সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত উইমেনস প্রোটেকশন ইউনিটস রয়েছে।

এসডিএফের প্রধান মাজলুম আবদি বাহিনীটি এবং কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী কী প্রক্রিয়ায় সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে একীভূত হবে, তা জানাননি। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কুর্দিবিষয়ক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ মুৎলু জিভিরওগ্লু এএফপিকে বলেন, ‘এসডিএফ বিলুপ্ত হওয়া কুর্দিদের জন্য তিক্ত পরিণতি। এটি সিরিয়ায় কুর্দি শক্তির অবসান।’

২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তুরস্কের বারবার সামরিক অভিযানের মুখে পড়েছিল কুর্দি বাহিনী। আঙ্কারা জানায়, তারা এসব যোদ্ধাকে নিজেদের সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। পিকেকে দেশটিতে কয়েক দশক ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়েছে।

কারাগারে থাকা পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানের পর গত বছরের মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিত্যাগ করে। এর মধ্য দিয়ে চার দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। ওই সহিংসতায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।

পিকেকের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করলেও বালানশে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে পিকেকেই পর্দার আড়াল থেকে ওয়াইপিজিকে পরিচালনা করে।’

ওয়াইপিজি হলো এসডিএফের মূল ভিত্তি পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস।

সূত্র : এএফপি/বাসস