যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হয়ে কাজের অভিযোগে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি

ইরানে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগ জানায়, মাজিদ আদিনেহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর পক্ষে কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভের পেছনে ছিল ইরানের অর্থনৈতিক সঙ্কট। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট রোববার এক প্রতিবেদনে জানায়, আদিনেহর বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়।

এতে বলা হয়, ‘মামলার অসংখ্য নথি ও প্রমাণ এবং আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে কারাজ বিপ্লবী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।’

মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায় আদিনেহর করা আপিল খারিজ হয়ে যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। রোববার সকালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে ।

এটি আরো জানায়, ৯ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশে আদিনেহ ও আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে ‘একটি রিভলভার, গুলি, দুটি বৈদ্যুতিক শক দেয়ার যন্ত্র, দুটি কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার, একটি রিচার্জেবল করাত এবং এক বোতল পেট্রল’ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দ্রুত ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে।

এসব মৃত্যুদণ্ডের একটি বড় অংশের সাথে বিক্ষোভের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিছু মামলা যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত।

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইসিপিএম) জানিয়েছে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।