২৪ বিলিয়ন ডলারের জটিলতায় থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথেই জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরো ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের পতাকা
ইরানের পতাকা |সংগৃহীত

জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দেয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের শান্তি আলোচনা এখন থমকে গেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের এই বিশাল অঙ্কের জব্দ করা অর্থ ফেরত না দিলে ওয়াশিংটন এক ‘অন্ধকার গলিতে’ প্রবেশ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আলোচনার বল এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোর্টে, এই অচলাবস্থা তাকেই ভাঙতে হবে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথেই জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরো ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে নগদ তহবিল ছাড়তে নারাজ।

তাদের ধারণা, অর্থ ছাড়লে ইরানের ওপর থেকে ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির মূল সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যাবে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওবামার আমলের মতো কোনো ‘নগদ টাকার পাহাড়’ ইরানকে দেয়া হবে না এবং চুক্তি হতে হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর।

এই টানটান উত্তেজনার মাঝেই ওমান উপসাগরে মার্কিন দু’টি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের বাহিনী শুক্রবার ‘সতর্কীকরণ ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাগরে মার্কিন বাহিনীর উস্কানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে মার্কিন জাহাজগুলো এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধজাহাজে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং তেমন কিছু করা হলে তা হতো যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় কোনো সঙ্ঘাত না হলেও সাগরের এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়।

আপাতত যুদ্ধ থামানোর সব ধরনের কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের মূল সামরিক অভিযান শেষ হওয়ায় তারা এখন আর স্থায়ীভাবে কোনো হামলা চালাচ্ছেন না।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন