হরমুজ প্রণালী প্রধানত বন্ধ : বেছে বেছে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে ইরান

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর চলমান অস্থিরতায় সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক সংকটে পড়েছে ইরাক।

হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী |সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে অধিকাংশ বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু দেশকে পথ ছেড়ে দিচ্ছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেহরান নিজেদের পছন্দের ভিত্তিতে সীমিত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি ইরাকের বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারকে আন্তর্জাতিক এই প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন শনিবার (২২ আগস্ট) জানিয়েছে, বাগদাদের বারবার অনুরোধের পরই ট্যাংকারগুলোকে চলাচলের অনুমোদন দেয় তেহরান। সম্প্রতি ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের ইরাক সফরের সময়ও তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নিজেদের জাহাজগুলোর পথ সুগম করা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর চলমান অস্থিরতায় সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক সংকটে পড়েছে ইরাক।

শুধু ইরাকই নয়; নিজ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো। তবে ইরান আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো জাহাজকে তারা এই প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না। কেবল অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশের জাহাজই যাতায়াত করতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে ১০৩টি জাহাজ প্রণালীতে প্রবেশ করেছে এবং ৮৯টি বেরিয়ে গেছে। তবে তা যুদ্ধ শুরুর আগের সাধারণ সময়ের তুলনায় মাত্র ২০ শতাংশ।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে প্রণালী পার করে দিচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট শনিবার জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় দেড় কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালী দিয়ে সফলভাবে পার করা হয়েছে। নৌবাহিনীর তৎপরতার কারণেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও তেলের সরবরাহ বজায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।