পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মাক্কাহ জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদান অথবা এর সাথে সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলো বিবেচনা করে দেখছে দামেস্ক।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জোটের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সিরিয়া স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে প্রায় দুই দশক পর সিরিয়ার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি পাকিস্তান সফর করলেন।
চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং যেকোনো মুসলিম দেশ এতে যোগ দিতে পারবে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের সময় যৌথ জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও, সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত ১৮ আগস্ট আলেপ্পোর কাছে ইসরাইলি বিমান হামলার পর তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের পারদ চড়ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আল-শাইবানিকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাঁর দেশের অটুট সমর্থনের পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সাথে ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমির বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থানকে পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে বলে জানান তিনি। তিনি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুসহ রাজনীতি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রতিক্রিয়ায় আল-শাইবানি জানান, প্রেসিডেন্ট আল-শারা পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী।
ইরানের সাথে সিরিয়ার সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আল-শাইবানি বলেন, সফরকালে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার কোনো প্রস্তাব না দিলেও ইরান যদি সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অতীতে করা নিজের ভূমিকা স্বীকার করে নেয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দামেস্কের কোনো আপত্তি থাকবে না। এর আগে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের সাথে প্রতিনিধি দলীয় বৈঠকে শাইবানি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়, বিশেষ করে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকা ও মক্কা চুক্তির প্রশংসা করেন।
দুই পক্ষই ফিলিস্তিন, গোলান মালভূমি, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



