ইরান যুদ্ধে ২৫ শতাংশ 'রিপার' ড্রোন খুইয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

এর আগে গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট ড্রোনের ২০ শতাংশ হারিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের নতুন প্রতিবেদনে ক্ষতির এই পরিমাণ আরো বেশি বলে উল্লেখ করা হলো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এ সব ড্রোনে আর্থিক মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি
এ সব ড্রোনে আর্থিক মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি |সংগৃহীত

‌ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সংঘাতের কারণে মার্কিন বহরে থাকা উচ্চপ্রযুক্তির 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশই ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ সব ড্রোনে আর্থিক মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি। গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে মিডলইস্ট মনিটর ডট কম জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে দাবি করেছিলেন, এই ঘটনা তা ভুল প্রমাণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত কার্যকর রয়েছে। এর আগে গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট ড্রোনের ২০ শতাংশ হারিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের নতুন প্রতিবেদনে ক্ষতির এই পরিমাণ আরো বেশি বলে উল্লেখ করা হলো।

সেন্সর, রাডার ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটির দাম ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, এই ড্রোন মূলত উচ্চ আকাশে নজরদারি এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বা গাইড বোমা বহন করতে পারে। ধীরগতি ও কম উচ্চতায় ওড়ার কারণে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর এবং ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের সহযোগীদের কাছে এটি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এলাকায় মার্কিন ড্রোন বেশি বেশ হচ্ছে, ঢোকার চেষ্টা করছে। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে উভয় পক্ষ।

ড্রোনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,০০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে ও অভিযানের খরচ চালাতে মার্কিন প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত ৬ আগস্ট ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প তার যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং গোলাবারুদের তীব্র সংকটের কারণেই আপাতত ইরানে বড় ধরনের হামলা স্থগিতের নির্দেশ দেন।