যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট

শিগগিরই চালু হতে পারে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন

রাইট বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নতুন কিছু নয়। ইরান অতীতে এ ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সৌদিরা নিজেদের মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সৌদি তেল পাইপলাইন
সৌদি তেল পাইপলাইন |সংগৃহীত

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শিগগিরই আবার চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে রাইট বলেন, 'আমার মনে হয়, খুব শিগগিরই আপনারা পাইপলাইনটি আবার চালু হতে দেখবেন। রাইট বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নতুন কিছু নয়। ইরান অতীতে এ ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সৌদিরা নিজেদের মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

রাইট জানান, হামলার পর থেকেই তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কারিগরি দলগুলো ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করছে। কবে নাগাদ পাইপলাইনটি আবার চালু করা যাবে, সে বিষয়ে শিগগিরই আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

গত সপ্তাহে হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত এই পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করত। এটি ছিল বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

ইয়েমেনের হাউছি বাহিনীর সাম্প্রতিক ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মধ্যেই এই বিঘ্ন ঘটেছে। বাহিনীটি লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপসহ পশ্চিম উপকূলের বেশ কয়েকটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মায়ুন দ্বীপও রয়েছে।

ইয়েমেনের আশপাশে নৌ চলাচল প্রসঙ্গে রাইট বলেন, প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল ওই এলাকা দিয়ে গেলেও অধিকাংশ বাণিজ্যিক ট্যাংকার বাব আল-মান্দাব দিয়ে যায় না। তারা বরং 'সুয়েজ খাল এবং মিসরে থাকা পাইপলাইন' দিয়ে চলাচল করে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন

হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেও রাইট বলেন, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এখনো পরিবহন হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আগের রাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য গেছে। সাত দিনের গড়ও প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেলের বেশি এবং তা বাড়ছে।

রাইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুমানের ওপর নয়, জাহাজের পণ্যতালিকার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। 'প্রতিদিন সকালে আমি প্রতিটি জাহাজের প্রতিবেদন পাই—জাহাজের নাম, ঠিক কী পণ্য ছিল এবং এরপর সেটি কোথা দিয়ে গেছে।'

বিশ্বজুড়ে শোধনাগারের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রফতানি বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ডিজেল রফতানি ব্যাপক কমে যাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে বলেও জানান রাইট। তাঁর মতে, একসময় বড় সরবরাহকারী রাশিয়া এখন 'একেবারেই' ডিজেল রফতানি করছে না।

এর আগে রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এসব হামলা বৈশ্বিক ডিজেল সংকট বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, 'তাকে রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে... কারণ সে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি করছে।'