সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি এবং এক নতুন যুদ্ধকালীন অধ্যায়ের সূচনা বলে ঘোষণা করেছে ইয়েমেন। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি সোমবার (১৩ জুলাই) এই খবর জানিয়েছে।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নিজেদের অধিকার পুরোপুরি ফিরে পেতে ইয়েমেন এবার এক নতুন ধাপে প্রবেশ করবে। এই আগ্রাসনের কারণে সৌদি আরবকে চরম মূল্য দিতে হবে এবং তারা এক বড় কৌশলগত অচলাবস্থায় পড়বে। ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদির এই আগ্রাসন শাস্তিহীন পার পাবে না। উত্তেজনা প্রশমন পর্বের সমাপ্তি ঘটিয়ে সৌদি আরবকে এখন সব পরিণতির দায় নিতে হবে।
এদিকে, দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সানা বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ ও আকাশসীমা লঙ্ঘন প্রমাণ করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদীদের উসকানিতে রিয়াদ প্রশাসন অবরোধ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আল মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইয়েমেনি সূত্র জানায়, সানা বিমানবন্দরের অবরোধ ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরবেন না। সৌদি আরবের অর্থনীতি, বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোকে এবার রিয়াদের যেকোনো বোকামির চড়া মাশুল গুনতে হবে।
আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরো জানিয়েছে, সানা সরকারের প্রতিনিধি দলকে দেশে ফিরতে বাধা দিতেই এই বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল, যদিও তা ব্যর্থ হয়েছে। তারা একে সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হামলা ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের ইচ্ছায় ইয়েমেনের ওপর গত ১১ বছর ধরে চলা অন্যায় অবরোধ টিকিয়ে রাখতেই মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি শাসকগোষ্ঠী এই কাজ করেছে।
ইয়েমেনের জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষায় এই হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে বলে আনসারুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সাথে ইয়েমেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই পঙ্গু করে দেওয়া অবরোধের বিষয়ে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



