যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি নৌবাহিনীর চ্যালেঞ্জ

‘সাহস থাকলে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে জাহাজ নিয়ে আসো’

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিনিরা ভালো করেই জানে তাদের জাহাজ এ এলাকায় এগিয়ে এলে ইরানি যোদ্ধাদের জবাবের মুখে পড়তে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইআরজিসির নৌবাহিনী(ফাইল ছবি)
আইআরজিসির নৌবাহিনী(ফাইল ছবি) |ইরানের প্রেসটিভি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির নৌবাহিনী। বাহিনীর উপ-রাজনৈতিক কর্মকর্তা কর্নেল আলী মোহাম্মাদি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তাহলে আল্লাহর নামে বলছি, তোমাদের একটি জাহাজ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসো।’

পাকিস্তানের পুরোনো ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন এবং তেহরান নগর পরিষদের প্রকাশিত ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইন, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিনিরা ভালো করেই জানে তাদের জাহাজ এ এলাকায় এগিয়ে এলে ইরানি যোদ্ধাদের জবাবের মুখে পড়তে হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেই এর একটি উদাহরণ ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার রাতে মাশহাদের মুফাতেহ মোড়ে স্থানীয়দের এক সমাবেশে মোহাম্মাদি বলেন, ইরানি জাতির মধ্যে আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা ও প্রতিরোধের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন ইমাম খোমেনি (রহ.)। এই চিন্তার ফল আজ হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর মতো প্রতিরোধ আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে। এসব আন্দোলন আঞ্চলিক এমনকি বৈশ্বিক সমীকরণও বদলে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পারস্য উপসাগরে ইরানের ঐতিহাসিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে পরাশক্তিগুলো এ অঞ্চলে ঢুকে ইরানের রাজধানীতে বসেও দেশটির জন্য সিদ্ধান্ত নিত। এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সমুদ্রসীমায় নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

মোহাম্মাদি বলেন, বিশ্বের বড় বড় সেনাবাহিনী কয়েক মাস ধরে ওমান সাগরের পেছনে আটকে আছে। ইরানি ভূখণ্ডের কাছে আসার ক্ষমতা তাদের নেই। তার দাবি, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে এখন কোনো মার্কিন সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন নেই। ‘নিষিদ্ধ এলাকায়’ এগিয়ে এলে তাদের কী পরিণতি হবে, তা মার্কিনিরা ভালো করেই জানে।

ইরানের অতীতের ট্যাংকার যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপের জবাব দেয়া হয়েছে পাল্টা পদক্ষেপে। শেষ পর্যন্ত মার্কিনিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং সমুদ্রে সম্মানের পতাকা উড়িয়েছিল ইরানি যোদ্ধারাই।