ইয়েমেনের এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হাউছিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। একইসাথে দক্ষিণ সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে তারা। এই যুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইয়েমেন যুদ্ধের প্রধান পক্ষগুলোর মধ্যে রয়েছে হাউছি, সৌদি আরব, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি), ইসলামপন্থী দল ইসলাহ ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস।
হাউছি
ইরান-সমর্থিত হাউছিরা আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা’সহ দেশটির বড় একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ১০ বছরের বেশি সময়ের বোমা হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলাও তাদের দমাতে পারেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরুর পর ইসরাইল ও লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আরো আলোচনায় আসে গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরব
হাউছিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি নামে রিয়াদ। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা। এর কয়েক বছর পর, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় বাস্তবভিত্তিক ও কম সংঘাতপূর্ণ হয়।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল
সৌদি-সমর্থিত পিএলসি গঠিত হয় ২০২২ সালে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে পিএলসি। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনা এগিয়ে নেয়া এবং দেশের তৎপরতা পরিচালনা করাই পিএলসির দায়িত্ব। হাউছিবিরোধী শক্তিগুলোকে এক করার লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামরিক নেতাকে এই জোটে রাখা হয়েছে।
ইসলাহ ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস
ইয়েমেনি কনগ্রেগেশন ফর রিফর্ম বা ইসলাহ ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্কিত একটি সুন্নি আন্দোলন। পিএলসি নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ হলেও দলটির নিজস্ব পরিচয় রয়েছে।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস সৌদি ঘনিষ্ঠ সরকারপন্থী সামরিক গোষ্ঠী। এর নেতৃত্বে আছেন মরহুম সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা তারেক সালেহ।


