নিজেদের একটি ভূগর্ভস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটির ভেতরের ছবি ও বিস্তারিত তথ্য প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি বিমানমহাকাশ বাহিনী বা অ্যারোস্পেস ফোর্স। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভূপাতিত উন্নত ড্রোন, যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং অভিযানে আটক করা দুশমনের বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে।
১৭১টি শত্রু বিমান নিশানা করা হয়
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ আকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ডারের বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা শুক্রবার জানায়, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তৃতীয় যুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৭১টি শত্রু বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ১০টি মানববাহী যুদ্ধবিমানও আঘাত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ১০টি মানববাহী বিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ড্রোন ধ্বংসের ফলে শত্রুর ড্রোন-ভিত্তিক অভিযান এবং আমাদের কৌশলগত ও যুদ্ধক্ষেত্রের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের পরিকল্পনা বানচাল করা সম্ভব হয়েছে।'
প্রতিরক্ষা এড়ানোর ৪ কৌশল ব্যর্থ
আগ্রাসী বাহিনীর প্রযুক্তির আধুনিকতার উল্লেখ করে আইআরজিসির ওই কমান্ডার জানান, উন্নত যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সাধারণত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে চারটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহার করে। এগুলো হলো ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, দ্রুত ও জটিল কৌশলে গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার, আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের ব্যবহার এবং ফ্লেয়ার ছোড়া। তবে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব প্রতিরোধমূলক কৌশলকে অকার্যকর করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। প্রদর্শনীতে আগ্রাসী বাহিনীর একটি আধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখানো হয়। এই যুদ্ধবিমানটি গত ৩ এপ্রিল ভূপাতিত করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সিরিয়াল নম্বর ২৬১-এর স্ট্র্যাটেজিক এমকিউ-৯ ড্রোন , হার্মিস ৪৫০, হার্মিস ৯০০ এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থার সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে।
এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের নিখুঁত বিবরণ
এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি কীভাবে আঘাত হানা হয়েছিল, তার বিবরণ দিয়ে কমান্ডার বলেন, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে একটি উদ্ভাবনী ইরানি কৌশলের সংমিশ্রণে এ বিমানকে ভূপাতিত করা হয়। অভিযানের গতি ও তীব্রতা এত বেশি ছিল যে শত্রু বৈমানিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে বিপদ বুঝতে পারেন। কোনো সরঞ্জাম ধ্বংস করা বা পাল্টা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে বৈমানিক কেবল নিজের জান বাঁচানোর জন্য ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

আটক মার্কিন ড্রোন
বাড়ছে উৎপাদন, উন্নত হচ্ছে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
সংঘাত-পরবর্তী অবস্থার উল্লেখ করে সামরিক এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন যে, 'স্বনির্ভর জিহাদ' কমপ্লেক্সগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন অবকাঠামোর ৮৫ শতাংশের বেশি পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তিনি আরো জানান, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জামের উৎপাদন ও সরবরাহের হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যে শত্রু তাদের অবস্থান শনাক্ত, অনুসরণ বা লক্ষ্যবস্তু করার আগেই তারা লক্ষ্য শনাক্ত ও আঘাত করতে পারে।


