ইরাকের পিএমএফ কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পিএমএফভুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠীর উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক দখলদারিত্বের সময় গড়ে ওঠা প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে। তবে ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয়া আইএসআইএল (আইএস) মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই জোটের আনুষ্ঠানিক উত্থান ঘটে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারো আলোচনায় এসেছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) বা আল-হাশদ আল-শাবি। এটি মূলত ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি জোট, যেখানে অধিকাংশই শিয়া সংগঠন। এসব গোষ্ঠীর অনেকগুলোর সাথে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিএমএফে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

পিএমএফভুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠীর উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক দখলদারিত্বের সময় গড়ে ওঠা প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে। তবে ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয়া আইএসআইএল (আইএস) মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই জোটের আনুষ্ঠানিক উত্থান ঘটে।

সে সময় ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানি একটি ফতোয়া জারি করে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একত্রিত হয় এবং পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) গঠিত হয়।

২০১৬ সালে ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পিএমএফকে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে এ জোটের উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতাইব হিজবুল্লাহ, আল-নুজাবা মুভমেন্ট, কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা এবং কাতাইব ইমাম আলী।

এ ছাড়া এসব গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে একটি শিথিল জোটের অধীনেও সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ প্রায় প্রতিদিনই ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে আসছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও একাধিকবার পিএমএফের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো এসব অভিযানে কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পিএমএফ শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেই নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেই এই জোটের ভূমিকা ও তৎপরতা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসে।

সূত্র : আল জাজিরা