যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে ইরানই জিতেছে : বাকের গালিবাফ

বৈঠকে বাকের গালিবাফ মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনকে এক ‘কাপুরুষোচিত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাংবাদিকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ
সাংবাদিকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ |ইরনা

চলমান মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই ইরান ‘প্রকৃতপক্ষে জয়ী হয়েছে’ বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল, তার একটিও তারা অর্জন করতে পারেনি। ফলে এটি তাদের জন্য চরম পরাজয় এবং ইরানের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয়।

আল জাজিরা ও ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা রোববার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, স্পিকার বাকের গালিবাফ পার্লামেন্টের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। বৈঠকে বাকের গালিবাফ মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনকে এক ‘কাপুরুষোচিত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, 'ইরানের জনগণ সাহসিকতা ও সততার সাথে এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল লিখিত ও ঘোষিত ৯টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু কোনো পর্যায়েই তারা তাদের একটি উদ্দেশ্যও অর্জন করতে পারেনি।'

কূটনৈতিক বিজয় ও জনগণের অবদান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারককে 'সম্মান ও বিজয়ের দলিল' হিসেবে উল্লেখ করে বাকের গালিবাফ বলেন, এই চুক্তি মাঠপর্যায়ের বিজয়কে কূটনৈতিক অঙ্গনে সুসংহত করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে তিনি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফল বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, '৯ কোটি ইরানি নাগরিক তাদের রাজনৈতিক মতভেদ ও জাতিগত পরিচয় ভুলে এককভাবে দাঁড়িয়ে মাতৃভূমি ও ইসলামি বিপ্লব রক্ষা করেছে।'

সঠিক ইতিবৃত্ত ও সাংবাদিকতার দায়িত্ব

বাকের গালিবাফ আফসোস করে বলেন, ইরানি জনগণ এই মহা বিজয়ের প্রকৃত অনুভূতি যেভাবে উপলব্ধি করার কথা ছিল, সেভাবে হয়তো পৌঁছায়নি। বিজয় ও গর্বের এই সঠিক বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদের।

সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, সরকারি ও মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো এই গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর জন্য গর্ববোধ করতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে যুদ্ধে প্রাণ হারানো ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেয়া হয়।