মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের বিরতির পর আবারো উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে) হামলাটি চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সেন্টকম আরো জানিয়েছে, ইরানের নির্দেশে পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রভান্ডার ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের সাময়িক শান্ত অবস্থা ভেঙে গেল। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকম বলেছে, ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলা এড়াতে ইরান এবং তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরব জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকে অবস্থানরত ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় টানা তিন দিন দুই দেশের মধ্যে কোনো হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ-চলাচলের অধিকার নিয়ে বিরোধ এখনো দুই দেশের আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও তেহরান বরাবরের মতোই এ ধরনের আলোচনার অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১৭ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংক্রান্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন।



